Skip to main content

একটি মজার ছোটগল্প " ভবিষ্যৎ বাণী "


একটি মজার ছোটগল্প " ভবিষ্যৎ বাণী "


(১)

বুজরুকি নয় তো, আর কি!
যে জিনিষ টা আজ পর্যন্ত এখনো জীবনে ঘটেনি,আর সেটা এই ২০১৬ এর মধ্যেই ঘটবে! যতসব গাঁজাখুরি কথা। ভাওতাবাজি।লোক কে ঠকিয়ে টাকা নেওয়া।এসব মানুষ দের দেখলে আমার মাথার ভেতর তাপবিদ্যুৎ কারখানা তৈরী হয়।দেখ,আমি প্রমান করে ছাড়বো,ওসব হস্ত্যবিদ্যা,অ্যাস্ট্রোলজি সব মিথ্যে কথা।লোক ঠকানো।
এপর্যন্ত বলে একটা বিড়ি ধরালো অরুপ।গোল রিং করে উপরের দিকে ধোঁয়া ছাড়লো।সুমন বলল,-"আর যদি এটা সত্যি হয়?"
একটা আঙুলের টোকায়,বিড়ির পোড়া ছাই ফেলে দিয়ে অরুপ বলল,-" হান্ড্রেড পারসেন্ট গ্যারান্টি, সত্যি হবে না।আমি হতে দেব না। প্রমান করে দেব হাতের রেখা দেখে কিছু বলা যায় না।"
-"এত জোর দিয়ে কি করে বলছিস? এসবের কিন্তু একটা বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে।"
-"কোনো কিছুই নেই।সরল সাধরন মানুষ কে বোকা বানানো সব।"
-"আমার মনে হয়,কিছু তো আছে। নইলে, আন্দাজে এত ভবিষৎবাণী করা যায় না।"
-"ওরকম দু'একটা গননা যেকেউ করতে পারে। আরে বাবা,দশটা কথা বললে একটা তো খাটবেই!"
-"তোকে কিন্তু একটাই কথা বলেছে।দশটা নয়।আর এটা যদি সত্যিই খেটে যায়?"
অরুপ বিড়িটা শেষ করলো না।অর্ধেক টা ফেলে দিয়ে বলল,-"সত্যি হলে,সাধু বাবা কে এসে এক কিলো গরম জিলিপি,আর সদ্য এটিএম থেকে তোলা কড়কড়ে পাঁচশো টাকার নোট দিয়ে আসবো।"
সুমন হেসে বলল,-" আর আমাদের জন্যে ছোটো করে একটা রঙিন জলের পার্টি!"
-"হুম,গোঁফে তেল মেখে বসে থাক,কাঁঠাল আর পাবি না।কি করে ওই গোঁফওয়ালা,জটাধারী ভন্ড সাধুর হস্ত গনণা ঠিক হয় আমিও দেখে নেব।" পা,দোলাতে দোলাতে বলল সুমন।
-"হয় রে হয়।আমি নিজেই দেখেছি!"
-"কি দেখেছিস?"জিজ্ঞেস করলো সুমন।
-"সেবার আমার দাদার হাত দেখে,একজন বলেছিল,পড়তে পড়তে আমার দাদা চাকরী পাবে।"
-"পেয়েছিল?"বলল অরুপ।
-"এইচ.এস পাশ করেই চাকরী পেয়ে গেল।"
-"ওরকম দু'একটা লেগে যায়।"
-"না রে, এসব ভাগ্য,রাশি,চন্দ্র,সূর্য,নক্ষত্র,মঙ্গল, বুধ,বৃহস্পতি,শুক্রের ব্যাপার।তুই বুঝবি না।তোর কপালে যদি,এটা থাকে,তবে এই বাকি ছ'মাস সিন্দুকের মধ্যে ঢুকে থাকলেও হবে।" একটা লম্বা বক্তৃতা ঝাড়লো সুমন।
উপর নীচে মাথা নাড়লো অরুপ।বলল,-"ঠিক আছে,আমিও দেখছি...।"
এই মুহুর্তে একটা বড় বট গাছের নীচে বসে আছে দু'জন।গাছটি যেমন বড়,তেমনি বুড়ো। দেখলে মনে হয় যেন,মুঘল পিরিয়ডের গাছ। বাবর কিংবা,হুমায়ন লাগিয়ে রেখে গিয়েছিল। চারিপাশে মোটা মোটা শিকড় মাটির উপর বেরিয়ে এক জায়গায় বসার জায়গা মতো হয়ে গেছে।তারই উপরে বসে আছে দু'জন।সামনেই একটা বড় ঝিল পুকুর।পুকুরের ওপারে নারকেল গাছের সারি।সেই নারকেল গাছের ফাঁক দিকে চিলতে চিলতে সাদা মেঘ দেখা যায়।কিছু হাঁসের পাল ঝিলের জলে চরে বেড়াচ্ছে।তার মধ্যে কয়েকটি হাঁস পাড়ে উঠে, ঠোঁট দিয়ে পালকের জল ঝাড়ছে।গাছটির পাশ দিয়ে একটা বড় রাস্তা চলে গেছে পুব দিকে। সামনের খোলা মাঠের উপর দিয়ে দখিনা বাতাশ হু হু শব্দে ছুটে আসে।এদিকটা তে খুব একটা লোক চলাচল করে না।আর যারা আসে তারা একটা কারনেই আসে।
কি কারন?
এবার কারন টা বলি।গাছটির বাম দিকে কিছুটা দুরে পুকুরের গা ঘেঁষে একটা মন্দির।কালী মায়ের মন্দির। মন্দির টি খুব বড়ও নয়,আবার ছোটোও নয়।মাঝারি সাইজের। ছাতার মতো একটা শিরিষ গাছ ঘিরে রেখেছে মন্দির টিকে। একটাই মাত্র কুঠুরি।আর তার সামনে বারান্দা। লোহার রেলিং দিয়ে ঘেরা। আর সেই বারান্দায় সবসময় একজন সাধুবাবা বসে।যেমন হয় আর কি,গেরুয়া বসন,মুখ ভর্তি বড় বড় গোঁফ দাঁড়ি। মাথার চুলে ঝট পড়া।আর তার পাশে একমাত্র সিম্বল ত্রিশূল রাখা। সারাদিনই মন্দিরেই থাকেন, এবং পূজা অর্চনা করেন কাটিয়ে দেন। এলাকার লোক মন্দিরের দেবীকে যতটা না,জাগ্রত মনে করেন,তার থেকে বেশি জাগ্রত মনে করেন এই সাধু বাবার মুখের বচন।তাই প্রায় সময় লোকজন এখানে এসে,তার কাছে কখনো হাত, কখনো কপাল, চোখ,মুখ দেখিয়ে যান।
দিন পনেরো হল,সুমন আর অরুপ এখানে ঘুরতে আসছে।হাত দেখানো তাদের উদ্দেশ্য নয়। আসলে মুক্ত বায়ুতে,বিড়ির ধোঁয়া সেবনের মধ্যে একটা আলাদা ভালোলাগা আছে বলে মনে করে অরুপ।তাই প্রতি বিকালে সুমন কে নিয়ে হোস্টেল থেকে বেরিয়ে এখানে চলে আসে। সুমন ও এমনি এমনি আসে না।তারও একটা গোপন কারন আছে।যদিও জায়গাটা তার ভালোই লাগে,তার উপর উপরি পাওনা হিসাবে,নতুন নতুন বৌদি,অল্পবয়সী মেয়ে-এসব দেখে মন টা বেশ ফ্রেশ হয়ে যায়। সন্ধে বেলা হস্টেলে ফিরে গিয়ে পড়তেও মন বসে।
আজ বিকালে এসে প্রথম থেকেই অরুপ কে খোঁচাতে শুরু করলো সুমন।-"চল না,তোর হাতটা একবার দেখিয়ে আসি।দেখি সাধুবাবা কি ভবিষ্যৎ বাণী করে!"
খ্যাক করে উঠেছিল অরুপ।-"ভাগ শালা, অত বোকা আমি নই।যতসব ধাপ্পা বাজি।দেখছিস না,কত উজবুকের দল প্রতিদিন দলে দলে ভিড় করে! তবে ব্যাবসা টা কিন্তু মন্দ নয়।পারলে,তুই আর আমি দু'জন মিলে শুরু করতে পারি।"
সুমন হাল ছাড়লো না।ভবিষ্যৎ,কি ঘটবে জীবনে এসব জানতে তার ভালোই লাগে।শেষ পর্যন্ত সুমনের খোঁচা খেতে খেতে,খোঁচা খাওয়া বাঘের মতো হালুম করে উঠল অরুপ।বলল,-"চল,এত করেই যখন ধরেছিস।তবে টাকা পয়সা দিতে পারবো না কিন্তু।"
গাছের নীচ থেকে উঠে মন্দির টার সামনে গেল দু'জন। আজ ভিড় ততটা নেই।দু'জনের পর অরুপ আর সুমন বারান্দায় উঠে বসল।সাধুবাবা হাত উঁচু করলো দু'জনের দিকে। সুমন,অরুপের দিকে ইশারা করে বলল,-"হাত টা এগিয়ে দে,না!"
সুমন হাত এগিয়ে দিল সামনে চটের বস্তায় উপবিষ্ট সাধুর দিকে।কিছু বলতে যাচ্ছিল সুমন, কিন্তু সাধুবাবা হাত উঁচু করে,রক্ত চক্ষু দেখিয়ে তাকে থামিয়ে দিল। তারপর বজ্র কন্ঠে অরুপের দিকে তাকিয়ে বলল,-"এবছরের মধ্যেই তোমার জীবনে প্রেম আসবে।কেউ তেমাকে ভালোবাসবে।"
সুমন হেসে বলেছিল,-"তাই নাকি! আর কি কি হবে?"
গলায় আওয়াজ একই রেখে সাধুবাবা বলেছিল,-"তুমি এসব সম্পর্কে নাস্তিক।তাই আপাতত এটাই মিলিয়ে নাও আগে।তারপর এসো।"
চ্যালেঞ্জ টা আর সাধুর সামনে নেয়নি অরুপ। বাইরে বেরিয়ে এসে সুমনের কাছে নিয়েছিল। বলেছিল,-"বছর শেষ হতে আর পাঁচ মাস বাকি। আমিও ওই সাধুর গনণা মিথ্যা প্রমান করে ছাড়বো। দেখি,এই পাঁচ মাসে কে আমাকে ভালোবাসে?....এই পাঁচটা মাস,কলেজ বন্ধ, ফেসবুক,হোয়াটসঅ্যাপ সব বন্ধ, মেয়েদের থেকে দূরে দূরে থাকবো...দেখি কি করে হয়!"
পকেট থেকে দশটা টাকা বের করে,সাধুবাবার হাতে দিয়ে,আর একটা প্রনাম ঠুকে বাইরে বেরিয়ে এসে সুমন বলেছিল,-"যেটা তোর কপালে লেখা আছে সেটা হবেই। সে ঘরে বসে থাকলেও হবে।"
-"হলে,এতদিন অনেক আগেই হত বুঝলি।"দুজন আবার গাছের নীচে এসে বসে পড়ল।
দুজনই কলেজে পড়ে।হোস্টেলের একই রুমে থাকে।শুধু সুমন ভূগোলে অর্নাস,আর অরুপ ইতিহাসে। অরুপ ছেলেটি দেখতে যতেষ্টই হ্যান্ডসাম।বেশ লম্বা,স্বাস্থ্যবান চেহারা।চেহারায় একটু নাদুসনুদুস ভাব আছে।একটু লম্বাটে মুখ, টিকালো নাক,জোড়া ভুরু।মাথা ভর্তি কালো চুল।তার পরেও আজ পর্যন্ত কোনো মেয়ে তাকে কেন পছন্দ করলো না,এটাই এক কোটি টাকার প্রশ্ন।অথচ কলেজে মেয়েরা তার সাথে বেশ কথাই বলে,কিন্তু ভালবাসার বেলায় শুধু নো এন্ট্রি বোর্ড গলায় ঝোলানো।এক সময় দু'টো মেয়ের পিছনে লেজ নেড়ে নেড়ে অবশেষে লেজ গুটিয়ে চলে এসেছে।সেই থেকে প্রেমের উপর একটা বিতৃষ্ণাও রয়েছে অরুপের।



(২)


সন্ধ্যে বেলায় ঘরে ফিরে ক্যালেন্ডারে দাগ মারলো অরুপ।-"আজ থেকে শুরু হল তবে।"
অরুপের ঘরের আরেকজন পার্টনার রিজু বলল,-"কি শুরু হল রে!"
-"দিন গনণা।শালা,বছর টা শেষ হোক তারপর ও ব্যাটার মজা দেখাবো।"
-"কার?"
-"সময় হলে সব দেখতে পাবি।"
রিজু আর কথা বলল না। সাধুবাবার কথা মিথ্যে প্রমান করার জন্য উঠে পড়ে লাগলো অরুপ। ফেসবুক,হোয়াটসঅ্যাপ সব বন্ধ করে দিল। কলেজ ও বন্ধ হবার মতো।দু'এক দিন গেলেও মেয়েদের থেকে সাত হাত দূরে দূরে ঘোরে। একদম কাছে যাওয়া যাবে না। কাছে গেলে আকর্ষন বাড়ে।ক্লাস শেষ হলেই সোজা ইউনিয়ন রুম।ক্যারম বোর্ড পেটানো।
অক্টোবর শেষ হয়ে গেল।না,অরুপের জীবনে ভালোবাসা আসেনি।কেউ ভালোও বাসেনি। একটা লাফ মেরে সুমনের বেডে গিয়ে বলল,-"আর দু'মাস! তারপর তোর সাধুবাবার মজা দেখাবো।"
সুমন চুন মুখে বলল,-"এখনো তো দু'মাস হাতে আছে।অত নাচানাচির কি আছে!"
-"থাকলেও বা! এই দু'মাস আমি ঘর থেকেই বেরোবো না।মুখ ই দেখাবো না মেয়েদের।দেখি কোন মেয়ে ছুটে আসে!" অরুপ বলল।
কথাটা সুমনও ভাবলো।চিন্তার বিষয় বটে! মালটা বাইরেও না বেরোলে নতুন কোনো মেয়ে দেখবেও বা কি করে! ভালোবাসা টা আসবে কি করে?দেখাই যাক! মনে মনে একটা মন খারাপের নিশ্বাস ফেলল সুমন।
নভেম্বরও শেষ।বছর শেষ হতে আর এক সপ্তাহ বাকি।অরুপের মুখের হাসি চওড়া হয়ে গেল। আর সুমনের মুখ কালো।না,ছ'দিনে কোনো ম্যাজিক ঘটল না।শেষ দিনের ও আর মাত্র চার ঘন্টা বাকি।অরুপ বাঁহাতের তালুতে ডান হাত দিয়ে একটা ঘুষি দিয়ে বলল,-"তবে শালা! কে বলে,হাত দেখে সব বলে দেওয়া যায়?কে বলে, সাধুবাবার গননা কখনো মিথ্যে হয় না! আজ তার প্রমান করে দিলাম।"
বছরের শেষ দিন অরুপের জন্মদিন। গত বছর হালকা পার্টি দিয়েছিল। কিন্তু এবার ক্যাডবেরি দিয়েই খতম।জন্মদিনের ক্যাডবেরি খেতে খেতে সুমন বলল,-"সত্যিই সাধুবাবার গননা মিথ্যে হল। তবে সব কথা যে খাটবে,সেটাও হতে পারে না।"
হেঁয়ালি করে অরুপ বলল,-"কোথায় মিথ্যে হল! এখনো তিন ঘন্টা বাকি আছে,অনেক কিছুই ঘটতে পারে।"
আরও কিছু সময় কাটলো।যত সময় যাচ্ছে, অরুপের মুখের হাসি উজ্বল হচ্ছে।এই সময় অরুপের পাশের ঘরের সুপ্রিয় ঢুকলো।হাতে একটা গোলাপ,আর রঙিন কাগজে মোড়া একটা গিফট। সুপ্রিয়,অরুপের ক্লাসমেট।একই সাথে টিউসান ও পড়তে যায়।গোলাপ ফুল টা নিয়ে অরুপের কাছে গিয়ে সুপ্রিয় বলল,-"হ্যাপি বার্থ ডে মাই ডিয়ার।" তারপর অরুপ কে বুকে জড়িয়ে ধরল।
-" ধুর শালা, ছাড়! কি করছিস?" বিরক্ত হল অরুপ।
সুপ্রিয় ছাড়লো না।বলল,-"তোর জন্মদিন টার অপেক্ষা করছিলাম, কথাটা বলার জন্য-আই লাভ ইউ অরু।"
তারপর অরুপের গালে একটা টকাস করে চুমু খেল।এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নিল অরুপ।সুপ্রিয়র চুমু খাওয়া জায়গায় হাত ঘষে বলল,-"আবে! কি হল আবার তোর?"
সুপ্রিয় হেসে বলল,-"আমি সত্যিই তোকে ভালোবাসি।তোর সাথে সারাজীবন থাকতে চাই।"
তারপর লাজুকের মতো হেসে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে গেল সে।বোকার মতো দাঁড়িয়ে আছে অরুপ। হেসে খাটের উপর আছাড়-পাছাড় খাচ্ছে সুমন।সুমনের হাসি দেখে অরুপ বলল,-"এত হাসির কি হল? ও একটু 'ইয়ে' টাইপের আছে।"
-"সে তো আমিও জানি।শেষ পর্যন্ত তবে সাধুবাবার কথা ফলে গেল।" সুমন হাসি থামিয়ে বলল।
-"মানে!" অরুপের চোখ রসগোল্লার আকার নিল।
সুমন উঠে বসে শান্ত গলায় বলল,-" সাধুবাবা কি বলেছিল?এবছের মধ্যে তোর জীবনে প্রেম আসবে। তোকে কেউ ভালোবাসবে।কিন্তু সেটা মেয়ে না,ছেলে হবে-তার উল্লেখ তো করি নি।"
কি বলবে,কিছুই ভেবে পেলো না অরুপ।ধপ করে নিজের বেডের উপর বসে পড়ল।


স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৬)

Comments

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

একটি ছোটগল্প " হট প্যান্ট "

গল্পটি সম্পর্কে  : মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার প্রিয় লেখক দের লেখা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লিখতে।এ গল্পটিও তেমনি আমার প্রিয় লেখক প্রচেত গুপ্তের একটি গল্প থেকে অনুপ্রানিত।শুধু অনুপ্রানিত বলবো না, অনেকাংশে প্লটের মিল আছে।তবে গল্পের থিম বা, বিষয় বস্তু সম্পুর্ন আলাদা। তাই ওনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখাটা লিখলাম। গল্প পড়ূয়া ফেসবুক পেজ ঃ  http://www.facebook.com/golpoporuya (১) বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিরি গরম পড়েছে। ভ্যাপসা গরম।দিনের বেলা যে খুব সূর্যের তাপ, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।তবুও হাঁসফাঁস করে দিন কাটাতে হচ্ছে।বৈশাখের শেষ। আম– কাঁঠাল পাকার পরিবর্তে পচে যাবে বেশি।বৃষ্টি আসতে এখনও অনেক দেরি।এবছর বৃষ্টি আসবেও কিনা,তাতেও সন্দেহ আছে।বাংলার আবহাওয়া বর্তমান অবস্থা,এমন হাস্যকর যে, কোনো কিছুই সঠিক ভাবে বলতে পারেন না আবহাওয়া দপ্তর। রাত দশটা বেজে গেছে।গরম কালে এটা কোনো ব্যাপার নয়।বিশেষত শহরের দিকে তো এটা অনেকটা সন্ধ্যা নামার মতো ব্যাপার।ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানটা বন বন করে ঘুরছে।একটা টেবিল ফ্যান ও আছে কিন্তু তাতেও গরম কাটছে না।টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে রমেন বাবু, একটা ধুতি পরে খালি গায়ে বসে স্কুলের খাতা