Skip to main content

একটি ভূতের গল্প "ফেসবুকে ভয়।" ~ স্বদেশ কুমার গায়েন।



রাত একটা বাজতে এখনো দশ মিনিট বাকি। নিস্তব্দ চারিদিক। কালো ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতের, শশ্মানপুরীর নিস্তব্দতা কে ভেদ করে একটা পেঁচা তীক্ষ্ণ চিৎকার করতে করতে জানলার পাশ দিয়ে উড়ে গেল। শুনসান পিচ রাস্তা টা বেশ কিছুটা দুরে গিয়ে শহরের ভেতর মিশেছে। দোতালার জানালা দিয়ে রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো টা দেখা যায়। দু'তিনটে মেঠো কুকুর সেই আলোর নীচে দাঁড়িয়ে আছে। কোনো শব্দ নেই মুখে।
মিলির চোখে ঘুম আসছে না। সোহমের সাথে অনেক আগেই চ্যাট বন্ধ করে দিয়েছে। দোতালার ঘরে নিজের খাটের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে ,পা দুটো হাটু পর্যন্ত ভাঁজ করে দোলাতে লাগলো। পাশ থেকে মাথার বালিশ টা বুকের নীচে দিয়ে, সামনে রাখা ল্যাপটপের টাচপ্যাডের উপর অনিদিষ্ট ভাবে আঙুল ঘোরাতে লাগল। সমস্যা সামনে এলে, অনেক সময় মাথা কাজ করে না। মিলির ও করছে না।
গত পাঁচ মিনিট ধরে শুধু ভেবেই চলেছে–ছেলেটির ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করবে কিনা? আরও একবার ভিউ প্রোফাইলে ক্লিক করল সে। ছেলেটির নাম,সমীর। বয়েস তার মতোই। নীচের দিকে নামতে নামতে, একটা লেখা দেখে মিলি থেমে গেল,– ভালবাসার মৃত্যু হয় না, শুধু ভালবাসার মানুষের মৃত্যু হয়। মিলির মন টা কেমন হয়ে যেন গেল। মেসেজ অপসানে গিয়ে ছেলেটিকে একটা মেসেজ করল,—" তুমি আমাকে চেনো?"
ওপার থেকে সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই এল,—" না।"
আবার ম্যাসেজ টাইপ করল মিলি— "তবে আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালে কেন?"
ছেলেটি লিখল,— "আমি সমীরন কে চিনি। আমার রিকোয়েস্ট টা অ্যাকসেপ্ট কর।"
বুকটা কেঁপে উঠল মিলির। গলার কাছে যেন শুকিয়ে এল। একটা ঢোক গিললো সে। হাত, পা দুটো একটু একটু করে কাঁপতে থাকলো।কাঁপা কাঁপা হাতে কোনো রকমে টাইপ করল - "তুমি, সমীরনের কে হও?"
— "ছোটবেলার  বন্ধু। সমীরনের বাড়ির পাশেই আমার বাড়ি।"
- "ওকে!অ্যাকসেপ্ট করছি।"

পনেরো মিনিট কথা হওয়ার পর গুড নাইট জানিয়ে ল্যাপটপ টা বন্ধ করে দেয় মিলি। খাটের উপর এপাশ, ওপাশ করতে থাকে। এই ছেলেটি কি সব জানে? সমীরন কী মরার আগে ও কে ফোন করে সব বলে দিয়েছে? কিন্তু ফোন করবে কি করে?........ ছেলেটি এবার আমাকে ব্লাকমেল করবে না তো? কাউকে যদি বলে দেয়!
মাথা ঘুরে আসে মিলির।উঠে বসে পাশের টেবিল থেকে জলের বোতোল টা নিয়ে এক ঢোক জল খায়।- তার তো কোনো দোষ নেই? আরও দুজন স্টুডেন্ট মারা গিয়েছিল সেই ভ্রমনে। মনে মনে মিলি ভাবে। তবে হ্যাঁ, তারা ইচ্ছে করলে সমীরন কে বাঁচাতে পারত, কিন্তু করিনি। আর করবেই বা কেন? মাছের কাঁটার মতো ,গলায় আটকে থাকা জিনিষের মরে যাওয়াই ভাল।
মিলি সাত পাঁচ ভাবতে থাকে। সোহম কে এই ছেলেটির ব্যাপারে জানাবে? ফোনটা হাতে তুলে আবার বালিশের পাশে রেখে দেয় মিলি।— না! একটু দেখাই যাক। ছেলেটি এ সম্পর্কে কিছু বলে কিনা?
অনেক ভাবনা চিন্তার পর শেষ রাতের দিকে, কোল বালিশ টা কে জোর করে আঁকড়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ে মিলি।


সমীরন, মিলির প্রাক্তন প্রেমিক। সরল সাধাসিধে একটা ছেলে। পড়াশুনায় খুব ভাল। শহরের মতো হয়তো ওতোটাই স্মার্ট নয়, তবে একেবারে আনস্মার্ট ও বলা যায় না। লম্বাটে গড়ন,ফর্সা মুখের টানা টানা চোখ দুটো থেকে যেন, সব সময় প্রেম ঝরে পড়ছে। আর এই চোখ দেখে মিলি নয়, মিলির মা ই সমীরন কে পছন্দ করে ফেলেছিল– মিলির জন্য। মিলিদের বাড়ির ঠিক পেছনের বাড়িটিতে ভাড়া থাকত সমীরন। কলেজে দুজনই একই বিভাগের। জিওগ্রাফি অনার্স। তাই প্রেম টা আরও জমে উঠেছিল, দুজনের। আসলে সমীরন পাগলের মতো ভালবেসে ফেলেছিল মিলিকে। মিলিও ভালবাসতো সমীরন কে-তবে পাগলের মতো না।
দু বছর কেটে যাওয়ার পর কলেজের তৃতীয় বর্ষে এসে, মিলির কাছে যেন অসহ্য লাগল এই ভালবাসা টা। এত বেশী ভালবাসা তার যেন ভাল লাগল না। সমীরনের কোনো কিছুতেই, না নেই। মিলির সব কিছুতেই,সে হ্যাঁ বলতো। ক্লাসে বোকার মতো ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকত তার দিকে। কোনো দিন একটুও ঝগড়া ও করিনি তার সাথে । সম্পর্ক টা দিনের পর দিন কেমন যেন ফ্যাকাসে হয়ে পড়ছিল। বার বার মনে হচ্ছিল একটা যন্ত্রনার উপর দাঁড়িয়ে আছে মিলি। তবুও শেষ চেষ্টা করেছিল মিলি। ফাঁকা বাড়িতে একদিন সমীরন কে দুহাতে বুকে জড়িয়ে ধরে প্রায় আড়াই মিনিট ঠোঁটে, ঠোঁট ডুবিয়ে রেখেছিল।  নিজের দুধসাদা শরীর টাও সেদিন প্রথমবারের মতো দেখিয়েছিল সমীরন কে। সমীরন ও বোকার মতো মিলির কোমোর টা জড়িয়ে ধরে বলেছিল,-"মিলি তোর নাভির একটু নীচে একটা তিল আছে।"
উফ! বলে একটা বিরক্তি প্রকাশ করেছিল মিলি। পরদিন গভীর রাতেই,ডিসিসান টা নিয়েই ফেলল,– এ সম্পর্ক টা আর রাখা যাবে না। কিন্তু সব থেকে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াল মিলির মা। অনেক আগে থেকেই যে সমীরন কে,তিনি জামাই হিসেবে ভেবে নিয়েছেন।

ভ্যাবসা গরমের মধ্যে এক টুকরো হিমেল হাওয়া যেমন শরীরে মাদকতা আনে,ঠিক তেমনি তৃতীয় বর্ষের মাঝামাঝি কলেজের ক্রিকেট টিমের ক্যাপ্টেন সোহম ও মিলির শরীরে মাদকতা এনে দিল । সোহম বেশ স্মার্ট ছেলে, দেখতেও মন্দ নয়। একথা সত্য যে কোনো সম্পর্ক যখন অসহ্য লাগে বা, তার থেকে কেউ যখন বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে, তখন অন্য কাউকে তাড়াতাড়ি ভাল লেগে যায়। মিলির ক্ষেত্রে ও ঠিক তাই হল।
সোহম , মিলির সাথে একই ক্লাসে পড়ে। মাঝে মাঝে সোহম মিলির দিকে যে তাকাতো সেটা, এখন খুব ভাল করে বুঝতে পারে মিলি। সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মধ্যে ম্যাজিকের মতো মিলির জীবন কে রঙিন করে তোলে সোহম। আর সেই রঙিন আলোয় মিলিও পাগলের মতো ভালবেসে ফেলে সোহম কে।
সমীরনের সাথে যে মিলির কথা হয় না-সেটা ঠিক নয়। তবে সেই কথা এখন রঙহীন। সামনেই জিওগ্রাফি ডিপার্টমেন্টের দার্জিলিং ট্যুর। ক্লাসের সবাই যাচ্ছে। কিছুদিন বেশ আনন্দে কাটবে।  দু দিন বেশ ভালই কেটেছিল। তৃতীয় দিন ভয়ঙ্কর সেই অ্যাক্সিডেন্ট টা ঘটল। পাহাড়ি ধসের কবলে পড়ল পুরো কলেজের দল টা।
 একসাথে তিনজন ঘুরে ঘুরে দেখছিল, আকাশের মেঘের ভেলা। হঠাৎ করেই ধস টা নামে। ইচ্ছে করলে সমীরন কে বাঁচাতে পারত মিলি আর সোহম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিলি, সমীরনের জামাটা আর সোহম, সমীরনের হাত টা ছেড়ে দিল। সমীরনের সাথে সাথে আরও দুজন স্টুডেন্ট হারিয়ে গিয়েছিল দার্জিলিং এর কোলে। যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল মিলি। এতক্ষনে তবে মাছের কাঁটা টা গলা থেকে নামল।
এ ঘটনা টি তিন বছর আগের। এর মাঝে অনেক সময় কেটে গেছে।তবুও ঘটনাটা মিলি মন থেকে মুছে ফেলতে পারিনি। সোহমের সাথে মিলির বিয়ের দিনও প্রায় ঠিক গেছে। কিন্তু হঠাৎ করেই এই ছেলেটি সমীরন কে নূতন করে  মনে করিয়ে দিল। কি চায় এই ছেলেটি? সোহমের সাথে বিয়ের রাতে পুলিশ নিয়ে হাজির হবে না তো?
 আজকে রাতে মিলি ল্যাপটপ খুলে ফেসবুক টা অন করল। এ'সময় সে সোহমের সাথে কথা বলে। বারোটা বাজতেই ছেলেটিকে প্রতিদিনের মতো অনলাইন দেখালো। গত পনেরো দিন ধরে ছেলেটির সাথে চ্যাট করছে মিলি।– অভদ্র বলে মনে হয় না ছেলেটিকে।বরং ওর সাথে কথা বলতে বেশ ভালোই লাগে মিলির।এ কয়দিনেই কেমন যেন কাছের বন্ধু হয়ে গেছে।
 মিলি ম্যাসেজ টাইপ করল,–"সমীর, কি করছ?"
ওপার থেকে রিপ্লাই এল,–"আমাকে এবার থেকে তুই করে বলবি।"
– "ওকে।তুই করেই বলব।" হাসলো মিলি।
ইচ্ছে করেই মিলি ছেলেটিকে,সমীরন সম্পর্কে কোনো কথাই জিজ্ঞাসা করে না। রাত একটা বাজে। সোহম কে অনেক আগেই মিলি গুড নাইট বলে দিয়েছে। কিন্তু ছেলেটির সাথে চ্যাটিং করে যাচ্ছে এখনও।- কি মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে ছেলেটি। মনে মনে ভাবল মিলি।
একটু দুষ্টমি করতে ইচ্ছে হল মিলির।ম্যাসেজে টাইপ করল,–"এই রাতে এখনও ফেসবুকে তুই? গার্লফ্রেন্ড আছে নাকি?"
সমীরের রিপ্লাই এল,– "না রে।ও সব এক সময় ছিল।"
মিলি হাসল।–"এই বল না, তারপর কোথায় গেল?"
কিন্তু ওপার থেকে যে রিপ্লাই টা এল সেটার জন্য মিলি মোটেই প্রস্তুত ছিল না। – "তোর ঠোঁটের ডান পাশের নীচে একটা তিল আছে না?"
চমকে উঠল মিলি।–" তুই কি করে জানলি?"
সমীর একটা হাসি মুখের স্টিকার পাঠালো। লিখল,–" সমীরন আমাকে সব বলতো।"
মিলির নিশ্বাস– প্রশ্বাশের হার বেড়ে গেল। দ্রুতো টাইপ করল,–"আর কিছু বলেছে নাকি?"
– "হ্যাঁ, বলেছে। তোর নাভির ঠিক চার আঙুল নীচে একটা কালো তিল আছে।"
মিলি লজ্জা পায়। মনে মনে ভাবে,–" ইস! কী বাজে ছেলে সমীরন। বন্ধুদের সাথে সব কথা বলতে হয়।" মিলির শরীর,মাত্র দুটো ছেলেই দেখেছে। সমীরন আর সোহম। খুব রাগ হয় সমীরনের উপর। গালাগালি করতে ইচ্ছে করে মিলির,– ও মরেছে ঠিক হয়েছে।
কিছুক্ষন চুপ থেকে  টাইপ করল মিলি– "বাজে ছেলে একটা।"
ঘড়িতে আড়াইটে বাজে। মিলির সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। ঘরের নাইট ল্যাম্প টা থেকে হাল্কা আলো ছড়িয়ে পড়ছে বিছানার উপর। বাইরের নি:ঝুম অন্ধারের ভেতর শুধু ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক আর ঘড়ির টিক্ টিক্ টিক্ শব্দ কানে আসে। আশেপাশের দোতালা বাড়ি গুলো সব গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। পাশের বকুল গাছ থেকে একটা রাতজাগা পাখির ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ এল। ঠিক এই সময় সমীরের মেসেজ এল আবার,–" ও পাগলার কথা ছাড়।"
মিলি উৎসাহের সাথে লিখল,–" হ্যাঁ তাই ভালো। তোর প্রেমে ল্যাং খাওয়ার কথা বল?"
সমীর লিখল,– "একটা মেয়েকে খুব ভালবাসতাম। সেও বাসতো কিন্তু বেশ কিছু দিন পর মনে হল মেয়েটি আর ভালবাসতে চাইছে না আমাকে।"
মিলি লিখে পাঠালো, – "ভেরি স্যাড! তারপর?"
সমীরের রিপ্লাই টা একটু দেরীতে এল,–" বুঝতে পারলাম মেয়েটি অন্যএকটি ছেলেকে ভালবাসে। তবুও মেয়েটির মা আমাকে খুব পছন্দ করত।"
একটা ঢোক গিললো মিলি,–" তারপর!"
– "এরপর, একদিন কলেজ থেকে বেড়াতে গেলাম সবাই। মেয়েটি এবং সেই ছেলেটিও সাথে ছিল।"
মিলির নিশ্বাস– প্রশ্বাস গতি নিল। তাড়াতাড়ি টাইপ করল,–"কোথায় বেড়াতে গিয়েছিলিস?"
ওপার থেকে রিপ্লাই এল,– "দার্জিলিং। "
মিলির বুকটা দপ দপ করে কাঁপছে। তবুও লিখল,– "তারপর?"
– "পাহাড়ি ধসের মুখে পড়ল পুরো দল টা। তিনজন স্টুডেন্ট মারা গেল। তার মধ্যে আমিও ছিলাম।"
মিলির শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল। হাত, পা গুলো থর থর কাঁপছে। হঠাৎ ঘরের নাইট ল্যাম্প টা দপ দপ করতে শুরু করল।আর সেই সাথে রাস্তার কুকুর গুলো যেন ভয়ার্ত স্বরে চেঁচিয়ে উঠল। ল্যাপটপের স্ক্রিন টা কাঁপছে। মিলির গলা শুকিয়ে এল।আর সেই শুকিয়ে যাওয়া গলা থেকে একটাই আওয়াজ বেরিয়ে এল,– "সমীরন তুই!"
ল্যাপটপের স্ক্রিন ঝাপসা হয়ে উঠেছে। তবুও মিলি পরিষ্কার দেখতে পেল, এতদিনের ফেসবুক আইডির সমীর নামটা এখুনি কোন অলৌলিক বলে সমীরন হয়ে গেছে।

স্বদেশ কুমার গায়েন ( ২০১৫)
 
কবিতা পাঠ - ইউটিউব 


Comments

Popular posts from this blog

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

একটি প্রেমের গল্প " অসমাপ্ত প্রেমের পাঁচ বছর পর "

(১) মাঝে মাঝে মনে হয়,জীবনে ভালবাসা কেন আসে,আর আসলেও কেনই বা চলে যায়? যদি চলে যায়,পরে কি আবার তাকে ফিরে পাওয়া যায়? হয়তো বা যায়। আবার নাও পাওয়া যেতে পারে। যদিও বা পাওয়া যায়,তাকে কি নিজের করে নেওয়া যায়?সবাই পারে না, কেউ কেউ পারে। এটা তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে।গল্প শুরুর আগে হয়তো অনেক বকবক করে ফেললাম! আপনারা হয়তো বিরক্ত হয়ে উঠেছেন। যাইহোক এবার আসল গল্পটা বলি। যেদিন প্রথম কলেজে উঠলাম,সেদিনই বুঝে গিয়েছিলাম এ মেয়ে আমার পড়াশুনার বারোটা বাজানোর জন্যই এই কলেজে ভর্তি হয়েছে। বাংলা ডিপার্টমেন্টের এত ঝাঁকে ঝাঁকে মেয়ের মধ্যেও,সে যে আলাদা করে সবার কাছে চোখে পড়ার মত।আর দুর্ভাগ্যবশত সেটা আমার ও চোখে পড়ে গেল।সদ্য আঠেরো তে পড়েছি। মনের মধ্যে একটা শিহরন, রোমান্স,উশখুশ, ফ্যান্টাসি ভাব যে তৈরী হচ্ছিল সেটা ভালই টের পাচ্ছিলাম। ওরকম দুধের মতো গায়ের রঙ, টানা–টানা চোখ,মাথার ঘন কালো চুল পিঠের মাঝ বরাবর ছড়ানো,উন্নত বুক,চিকন চেহারা দেখলে মনের ভেতর একটা ভূমিকম্প, উথাল পাথাল তরঙ্গমালা তৈরী হয়। সে যেন বন্য হরিনী! স্থির,শান্ত,মনোহরিনী তার চোখের চাহনি ভোলবার নয়।সারা শরীরে, সারাক্ষন একটা চপলতার ভা