Skip to main content

Posts

Showing posts from May, 2017

ছোটো গল্প " কাজের মাসী "

প্রথম প্রচেষ্টায় চাকরী টা হয়ে গেল। কোনোদিন ভাবেনি,এরকম ভাবে হাসতে হাসতে দুম করে একটা কেলো ঘটে যাবে জীবনে। যাইহোক আমার চাকরীটা হল,দক্ষিন-পূর্ব রেলে। ডি-গ্রুপের চাকরী।পোস্টিং হল খড়গপুর। খড়গপুর নামটা বই এর পাতায় পড়েছিলাম। এক সময়ের পৃথীবীর দীর্ঘতম রেলওয়ে প্লাটফর্ম। কোনোদিন ভুল বশত যাওয়া ও হয়নি। আর আজ সেখানেই আমার গন্তব্য হবে,এটা কল্পনাতেও ভাবেনি কখনও। নির্দিষ্ট দিনে বেরিয়ে পড়লাম।ক্যানিং থেকে ফার্স্ট ট্রেনে শিয়ালদহ।শিয়ালদহ থেকে বাস। সোজা হাওড়া।যখন হাওড়া পৌঁছোলাম,তখন ঘড়িতে পাঁচটা পঁইত্রিশ বাজে।আমার পিঠে একটা কলেজ ব্যাগ।নিজের কিছু জামা-প্যান্ট, কিছু দরকারী কাগজ পত্র ব্যাগে।আর একটা জলের বোতল।তেমন ভারী কিছু নয়।আমার ট্রেন সকাল ছ'টায়।রুপসী বাংলা এক্সপ্রেস। যথাসময়ে পিঠে ব্যাগ টা চাপিয়ে রুপসী বাংলায় উঠে পড়লাম।ভাগ্যটা ভালোই ছিল,তাই জানালার কাছের সিট টা পেয়ে গেলাম আমি। ঠিক ছ'টা দশে ট্রেন নড়ে উঠল।তারপর ধীরে ধীরে প্লাটফর্ম ছেড়ে বেরোলো।আমি যেসময়ের কথা বলছি,সেসময় রুপসী বাংলা এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে ছাড়তো। দুপাশের বড় বড় বাড়ি,কোহাহল কে পিছনে রেখে ট্রেন ছুটলো ঝড়ের গতিতে।জানালার পাশে বসে আমার চ

একটি ছোটগল্প " বাবরি "

মাঝে মাঝে চোখের সামনে এমন সব ঘটনা ঘটে,তখন নিজের চোখকেও বিশ্বাস করা যায় না।মনে হয়,আজ কাল চোখে সব উলটো দেখাচ্ছে–যেটা হওয়া উচিত ছিল, সেটা না হয়ে, হচ্ছে অন্যটা। সন্ধ্যায় অফিস থেকে ঘরে ঢুকতেই,আমার ও সেই অবস্থা হল। হচকচিয়ে গেলাম।পা দু'টো থমকে গেল। একি কান্ডকারখানা?নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারলাম না।সত্যিই তো,এরকম ঘটনা ঘটলে বিশ্বাস করা যায় না! পরমার রুদ্রমূর্তি চেহারা।এরকম রনংদেহী মুর্তি আগে কখনো আমি দেখেনি।হাতে একটা সরু লাঠি।বাঁশ বা কঞ্চি জাতীয় কোনোকিছু হবে। তাই দিয়ে,বাবরি কে বেদম পেটাচ্ছে।সপাৎ সপাৎ আওয়াজ হচ্ছে,মারের তালে তালে।বেশ দেখতে পেলাম,পরমার চোখ,মুখ লাল হয়ে উঠেছে।আর বেচারে বাবরি কিছু না বলতে পেরে মেঝের উপর সটানে শুয়ে আছে।কোনো প্রতিবাদ ও নেই তার মুখে।মুখ বুজে,নীরবে সব সহ্য করছে। আমি ঘটনাস্থল থেকে হাত সাতেক দুরে দাঁড়িয়ে আওয়াজ করলাম,–" আহা পরমা! কি করছো?বেচারির লাগছে তো।" আমার গলার আওয়াজ পেয়ে,বাবরি উঠে আমার দিকে চাইল; তারপর ছুটে এসে আমার ঠিক পিছনে,পায়ের কাছে লুকিয়ে পড়ল।বাবরি বুঝে গেছে,এই মুহুর্তে মারের হাত থেকে,যদি কেউ বাঁচাতে পারে, সেটা হলাম আমি। পরমা,আরও রেগে গি

ভালোবাসার গল্প " যেদিন ভালোবাসা শুরু হয়েছিল "

(১) ট্রেন টা হর্ন দিতে দিতে পার্কসার্কাস ডাউন প্লার্টফর্মে এসে থামে।ঘ্যাঁচ করে একটা শব্দ হয়। হঠাৎ ব্রেক কষলে যেমন হয় আর কি।গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা, লোকজন হুড়োহুড়ি করে নামতে থাকে।কেউ কেউ পায়ে,পা বেঁধে হোঁচট খায়।আবার নিজে নিজেই সামলে নেয়।আমি কাঁধে ব্যাগটা ঝুলিয়ে উঠে পড়ি। মিলি কে দেখতে পাই।জানালার পাশে বসে আছে। চোখ দুটো আমার দিকে।প্রতিদিনই থাকে।এ ট্রেন টি তে খুব একটা ভিড় হয় না।বেশ ফাঁকা ফাঁকা থাকে।এর আগের ডায়মন্ডহারবার লোকালে, সোনারপুর নামার সব লোক চলে যায়।আমরাও ওই ট্রেন টা তে গিয়ে সোনারপুর নামতে পারি। কিন্তু যাই না।মিলি অত ভিড়ে যেতে পছন্দ করে না।তাই পরের সোনারপুরে লোকাল ধরে। আমিও পার্কসার্কাস স্টেশনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সোনারপুর লোকালের অপেক্ষা করি। মিলির পাশে গিয়ে ব্যাগটা কাঁধ থেকে নামিয়ে উপরে তুলে রাখি। পকেট থেকে ঘর্মাক্ত রুমালটা বের করে মুখের সামনে ঘোরাই।উপরের ফ্যান গুলো থেকে গরম হাওয়া নামছে।-"কি ভ্যাপসা গরম বলতো আজ?"মিলির দিকে তাকাই আমি। অনেকটা মুখ বেঁকিয়ে মিলি বলে,-" হ্যাঁ,ট্রেনের সবার গরম তোর একা লাগছে?" -"লাগছে তো।জানালার পাশ থেকে সরে বোস, আজ আমি বস

একটি বন্ধুত্ব-প্রেমের গল্প "আমাকে বন্ধু করে নে।"

(১) জানালার পাশের কৃষ্ণচূড়া গাছটির দিকে তাকিয়ে উদাস ভাবে বসে আছে রিয়া। চোখের কোন থেকে এক ফোঁটা জল বেরিয়ে আসতে চাইছে অনেক আগে থেকেই। কিন্তু অনেক কষ্টে সেটা চেপে রেখেছে।সমুদ্রের মতো,বুকের মধ্যের বেলাভূমির পাড় টাকে যেন এক একটা ঢেউ এসে ভেঙে তচনচ করে দিচ্ছে। রিভু কেন যে তাকে বার বার ইগনোর করে যাচ্ছে!  কিছু দিন আগে পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। তার সাথে কথা না বলে থাকতে পারত না। ভালোবাসে বলেছিল। কিন্তু হঠাৎ কি যে হল? ম্যাসেজ পাঠালেও আর রিপ্লাই দেয় না। কিছুই মাথায় ঢুকছে না রিয়ার। ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করে রিয়া।মেসেনজার  অন করে আবার দেখে। কলেজে আসার পর থেকে, এ পর্যন্ত পঞ্চান্ন বার মেসেনজার চেক করে দেখা হয়ে গেছে। না,রিভু কোনো রিপ্লাই দেয় নি। অথচ তার মেসেজ খুলে সে দেখেছে। কৃষ্ণচূড়ার ডালের ফাঁক দিয়ে এক চিলতে রোদ এসে রিয়ার মুখের উপর পড়ে। ভেতরের জমাট বাঁধা বরফ গুলো, সেই তাপে গলে গিয়ে যেন চোখ দিয়ে বেরিয়ে আসতে চায়। খুব কাঁদতে ইচ্ছে করছে তার। কেন যে রিভু এমন করছে? -" কি রে রিয়া, মুখটা শুকিয়ে একদম আলুর চিপস করে ফেলেছিস! রোদে তোর ফর্সা মুখটা আরও লাল হয়ে গেছে।" সন্দীপ এসে রিয়ার পাশে হাইবেঞ্চের উ

একটি ভূতের গল্প " ভূতুড়ে "

কি দরকার ছিল এবার কাজ টা হাতে নেওয়ার! আর যদিও বা,নিল তবে কেনই বা আসতে গেল এই গো-ভাগাড়ে! কাছাকাছি কোথাও গেলেই পারতো।আসলে সব টাই হল মনের বাতিক। মনের বাতিক হল ভয়ানক বাতিক।কখন কোনদিকে টেনে নিয়ে যায় কেউ বুঝতে পারে না। আর মনের বাতিক আছে বলেই তো এই ধরনের কাজ,প্রতিবারই তার কাঁধে এসে পড়ে। রবীন দা,বেশ ভালো করেই জানে,প্রীতম কে এ কাজ টা দিলে,কোনোভাবেই না করতে পারবে না।প্রীতম ও না করতে পারে না।কারন,একটাই- তার একটু ঘোরাঘুরির নেশা আছে।আর সেই নেশার টানে এবার ও বেরিয়ে পড়েছে সে। কিন্তু সমস্যা টা কি?সমস্যা টা হল,একটা প্রশ্নের উত্তর শুনে প্রীতমের মনে হয়েছে যে,সে ভারতবর্ষে নেই।ভারতবর্ষ না হোক,অন্তত পশ্চিমবঙ্গে নেই সেটা বেশ বুঝতে পারছে।ভুল করে অন্য রাজ্যে ঢুকে পড়েছে। নইলে, এমন একটা সিম্পল প্রশ্নের উত্তর গ্রামের কেউ জানে না! ঠিকানাটা দিয়েছিল তার বন্ধু অতীন।অতীন রয়। প্রীতমের ক্লাস ফ্রেন্ড।এক সাথে স্কুল,কলেজ, ইউনির্ভারসিটি সব জায়গায় পড়াশুনা করেছে। অতীন এখন স্কুল টিচার।প্রাইমারী নয়,হাই স্কুল। দক্ষিন চব্বিশ পরগনার একটা গ্রামের স্কুলে পড়ায় অতীন।সেদিন সন্ধ্যায় তার কাছে ফোন করতেই,সেই ঠিকানাটা দেয়।তারপর অতী

একটি প্রেমের গল্প " মর্নিং ওয়াক "

(১) গেট ঠেলে সবেমাত্র শেন বন্ডের মতো বলের ডেলিভারি করতে করতে বাড়ির ভেতর ঢুকেছি, ওমনি এক হাঁকে আমার পা দু'টো থমকে গেল। দিদির গলার আওয়াজ।ভুল হওয়ার নয়।জন্মের পর থেকে এ আওয়াজ শুনে আসছি।আমি স্ট্যাচু অব লিবারটির মতো হাত উপরে করে দাঁড়িয়ে পড়লাম। -"এই, থাম.. থাম।এত ভোরবেলা কোথায় গিয়েছিলিস রে?" সব কিছুতেই দিদির নাক গলানো।ইচ্ছে করে, নাক টা টেনে এক হাত লম্বা করে দিই।এত জবাবদিহি কেন রে?আমি কোথায় যাই,বা না যাই, তাতে তোর এত মাথা ব্যাথা কেন?দিদি হয়েছিস বলে কি,সব সময় একটা দিদি দিদি ভাব নিয়ে থাকতে হবে! কই মা তো কিছু জিজ্ঞেস করে না।বড্ড বাড়াবাড়ি! আমাদের বাড়িটি দোতলা।চারিপাশে কোমর সমান উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা।দক্ষিন দিকে পাঁচিলের ঠিক মাঝখানে একটা লোহার গেট। গেট থেকে দু'হাত চওড়া একটা লাল খোয়া বিছানো রাস্তা আমাদের ঘরে ঢোকার দরজা পর্যন্ত।রাস্তার ডান পাশে এক ফালি জায়গা। চারকোনা। নানা রকম রঙবাহারি ফুল গাছে সাজানো জায়গাটি।দিদি,নিজের হাতেই যত্ন করে বানিয়েছে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই দিদির একটিই কাজ।মোটর টা চালিয়ে, একটা সরু লম্বা পাইপ নিয়ে ফুল গাছে জল দেওয়া।আজ ও জল দিচ্ছিল।আমা

একটি ছোটগল্প " অপরুপা "

তখন ও সকাল সাড়ে ছ'টা বাজেনি। আমরা সবাই ক্লাব ঘরে ঢুকে হট্টগোল শুরু করে দিলাম। যদিও এটা আমাদের প্রতিদিনরই কাজ।কি করলে,কেমন করে সাজালে,জিনিষ টা আরও ভাল হয়-তাই নিয়ে সবাই যে যার মতামত দেওয়া শুরু করলো।কেউ বললো,এবার আলোকসজ্জা টা কিন্তু ফাটাফাটি হওয়া চাই। আবার কেউ বললো,এবার ভালো সাউন্ড সিস্টেম আনতে হবে।কেউ আবার খাওয়া-দাওয়া নিয়ে পড়ল।এক সপ্তাহ বাদেই আমাদের ক্লাবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।প্রতিবছরের মতো এবছরে ও খুব বড় করে সেই অনুষ্ঠান করা হবে। কারন এ বছর অনুষ্ঠানের পঁচিশ বছর পূর্ন হচ্ছে। ছোটোবেলায় দেখতাম বাবা রা এই অনুষ্ঠান কত সুন্দর ভাবে চালাতো। জেনারেটরের আলোয়।এখনকার মতো তখন অত সুযোগ সুবিধা ছিল না।শুধু সাদা সাদা টিউব লাইটের আলোয় অনুষ্ঠান হতো।কি সুন্দর সে অনুষ্ঠান! পাড়ার সবাই অংশগ্রহন করতো। লাল পেড়ে শাড়ি পরে বড় বড় দিদিরা নাচতো রবীন্দ্রনাথের গানে।আমার ছোটোবেলায় সেই সব দেখে মুগ্ধ হতাম।বিভিন্ন ধরনের সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান-গান,নাচ, কবিতা আবৃতি,নাটক,হাস্য কৌতুক ক্যুইজ,অঙ্কন প্রতিযোগিতা এরকম আরও অনেক কিছু হত।এখন দিনকাল পালটেছে। বিদ্যুৎ এসেছে।রঙিন আলো এসেছে, জাপানি আলো,ডিজিটাল সাউন্ড,আরও অনেক কিছু।