Skip to main content

একটি বন্ধুত্ব-প্রেমের গল্প "আমাকে বন্ধু করে নে।"


(১)

জানালার পাশের কৃষ্ণচূড়া গাছটির দিকে তাকিয়ে উদাস ভাবে বসে আছে রিয়া। চোখের কোন থেকে এক ফোঁটা জল বেরিয়ে আসতে চাইছে অনেক আগে থেকেই। কিন্তু অনেক কষ্টে সেটা চেপে রেখেছে।সমুদ্রের মতো,বুকের মধ্যের বেলাভূমির পাড় টাকে যেন এক একটা ঢেউ এসে ভেঙে তচনচ করে দিচ্ছে। রিভু কেন যে তাকে বার বার ইগনোর করে যাচ্ছে!  কিছু দিন আগে পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। তার সাথে কথা না বলে থাকতে পারত না। ভালোবাসে বলেছিল। কিন্তু হঠাৎ কি যে হল? ম্যাসেজ পাঠালেও আর রিপ্লাই দেয় না। কিছুই মাথায় ঢুকছে না রিয়ার।
ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করে রিয়া।মেসেনজার  অন করে আবার দেখে। কলেজে আসার পর থেকে, এ পর্যন্ত পঞ্চান্ন বার মেসেনজার চেক করে দেখা হয়ে গেছে। না,রিভু কোনো রিপ্লাই দেয় নি। অথচ তার মেসেজ খুলে সে দেখেছে।
কৃষ্ণচূড়ার ডালের ফাঁক দিয়ে এক চিলতে রোদ এসে রিয়ার মুখের উপর পড়ে। ভেতরের জমাট বাঁধা বরফ গুলো, সেই তাপে গলে গিয়ে যেন চোখ দিয়ে বেরিয়ে আসতে চায়। খুব কাঁদতে ইচ্ছে করছে তার। কেন যে রিভু এমন করছে?
-" কি রে রিয়া, মুখটা শুকিয়ে একদম আলুর চিপস করে ফেলেছিস! রোদে তোর ফর্সা মুখটা আরও লাল হয়ে গেছে।" সন্দীপ এসে রিয়ার পাশে হাইবেঞ্চের উপর বসে। রিয়া চুপচাপ বসে থাকে। কোনো উত্তর দেয় না।এক এক করে সবাই ক্লাসে ঢুকছে। এগারো নাম্বার রুমে পি.কে.দের ইংরাজী ক্লাস ছিল। রিয়া যাই নি। সত্যিই তো! এরকম পরিস্থিতিতে ক্লাস করা একমাত্র পাগলদেরই পক্ষে সম্ভব।
-" ওই রিয়া! কি হয়েছে?"সন্দীপ ,আবার রিয়ার কানের পাশে গিয়ে আওয়াজ দেয়।
একটা বিরক্তি ভাব নিয়ে রিয়া তাকায়। এই সন্দীপ ছেলেটিকে তার একদম পছন্দ হয় না। কেমন যেন একটু গায়ে পড়া স্বভাবের। মনে হয় যেন তারই গায়ে একটু বেশী করে পড়ে।বোকা বোকা চেহারা,আর এক কথা দু'বার বলা অভ্যাস। কথা না বলতে চাইলেও জোর করে কথা বলে।তার বেস্ট ফ্রেন্ড সুজাতার সাথে বেশ ভাব। এটা অবস্য স্বাভাবিক,কারন সুজাতাদের নীচের তলায় সন্দীপ রা ভাড়া থাকে।আর সেই সূত্রে তার সাথেও একটু আধটু কথা বলে। প্রথম প্রথম তবু ঠিক ছিল। কিন্তু বেশ কিছুদিন যেতেই তার পিছনে একদম লেজুড়ের মতো জুড়ে গেছে। কলেজের ক্লাস থেকে ফেসবুকের ইনবক্স কোথাও শান্তি নেই ছেলেটির জন্যে। ফেসবুকের ইনবক্স টা খুললেই শুধু সন্দীপেরই আট দশ টা মেসেজ। সারাদিন ধরে যেন তাকে আবহাওয়ার আপডেট দিয়ে যাচ্ছে,– গুড মর্নিং...গুড নুন...গুড আপটার নুন........হ্যাভ এ নাইস ডে! এই সব লিখে কি যে আনন্দ পায় ছেলেটি, সেটা বুঝতে পারে না রিয়া। মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত লাগে তার। রিপ্লাই দিতে মন চায় না। তবু ক্লাসের বন্ধু বলেই মাঝে মাঝে দিতে হয়।
-" আমার কথা জেনে তোর কি বলতো?" সন্দীপের দিকে একটা শনির দৃষ্টি দিয়ে,দাঁড়িয়ে ওঠে রিয়া।
কিছুটা থতমত খায় সন্দীপ। তারপর বোকার মতো বলে,-"আমি তোর বন্ধু না?"
-" না..আ...আ.." মুখের উপর যেন একটা নব্বই ডেসিবেলের চকলেট বোম ছুড়ে মারে রিয়া। ব্যাগ টা নিয়ে ক্লাস থেকে বের হয়ে যায়।
বোকার মতো ফ্যাল ফ্যাল করে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে সন্দীপ। কি হল রে আবার! এই সব মেয়ে গুলো না, বর্ষা কালের আকাশের মতো। কখনো রোদ, কখনো মেঘ।

(২)

রাতে খাটে শুয়ে এপাশ ওপাশ করতে থাকে রিয়া। বেড সুইচ টা একবার অন করছে একবার অফ করছে। কিছুতেই চোখের পাতা দুটো এক করতে পারছে না।কেন যে এমন করে রিভু টা? গত দু'মাস ধরে কত্ত ভালবেসে ফেলেছে ওকে। তার কোনো দাম নেই ? দেখা করতে চাইলেও, একদিনও দেখা করেনি। ওর বাড়ি টা ও দেখেনি সে।এই জন্যেই বন্ধুরা বলে 'ডিজিটাল লাভে' বুঝে শুনে পা ফেলবি। এখানে কেউ নিজের সঠিক পরিচয় দিতে চায় না। কিন্তু রিভু ছেলেটিকে একদম সেরকম মনে হয়নি রিয়ার। আড়াই মাস আগে ফেসবুকেই পরিচয় হয়। তারপর একটু, আধটু কথা বলতে বলতে কেমন যেন ভালবেসে ফেলে ছেলেটিকে। ছেলেটিকে যে এতটাই ভালবেসে ফেলবে সেটা কখনোও বুঝে উঠতে পারেনি সে।
বালিশের পাশ থেকে ফোনটা নিয়ে,আবার ম্যাসেনজার টা অন করে। বিটকেল সন্দীপটার দশ টা ম্যাসেজ এসে গেছে এর মধ্যে। সে গুলো খুলে দেখে না রিয়া। রিভু কে আবার একটা মেসেজ পাঠায়।এক ঘন্টা অপেক্ষা করে থাকে । কোনো রিপ্লাই আসে না।চোখের জল মুছতে মুছতে, কোল বালিশটাকে আঁকড়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ে।

(৩)

আজ কলেজের ক্যান্টিন টা ফাঁকা। এখনো কলেজে সবাই আসেনি।সেই জন্যে বোধ হয় ফাঁকা। কোনের দিকের একটা টেবিলে ওরা দুজন বসে আছে। রিয়া আর সুজাতা।
-" তোর কেস টা কোথায় দাঁড়িয়ে বলতো? ছেলেটি কি বলতে চাইছে?এরকম চুপ চাপ থেকে কষ্ট পাচ্ছিস কেন? আমাকে কে বল!" গরম সিঙাড়ায় একটা কামড় বসিয়ে সুজাতা বলে।
রিয়ার দু চোখ জলে ছল ছল করছে। টেবিলের উপর আঁচড় কাটতে কাটতে বলে,-" সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে মেসেনজার টা খুলে রিভুর রিপ্লাই পাই।"
-" কি বলেছে ছেলেটি?" সুজাতা হাতের সিঙাড়াটা নামিয়ে প্লেটে রাখে।
-" এই রিলেসান টা রাখা ওর পক্ষে রাখা সম্ভব নয়" রিয়া একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে।
-" কেন?"
-" একটা ফালতু কারন। আমি ব্রাহ্মন নই। ভবিষৎ এ ওর বাড়ি থেকেও কেউ মেনে নেবে না।"
-"হুম! বুঝলাম। এদের প্রেম করার আগে কিছু মনে থাকে না।... তো তুই কি করবি এখন?" সুজাতা সিঙাড়ায় শেষ কামড় টা মারে।
-" কিছু বুঝতে পারছি না।অনেক বুঝিয়েছি ওকে,কিন্তু কিছুতেই বুঝতে চায় না। আবার ওকে ভুলে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠছে না।" রিয়ার গলাটা কেঁপে ওঠে।
- " কি আলোচনা চলছে , গোপন বৈঠকে!" দুম করে ধূমকেতুর মতো উদয় হয়ে, রিয়ার প্লেটের সিঙাড়া টা তুলে একটা কামড় দেয় সন্দীপ।
-" তুই সব সময় মেয়েদের কথায় নাক গলাস কেন বলতো?" সুজাতা বিরক্ত হয়ে বলে।
-" তুই চুপ করতো সুজি! এই জানিস কাল রাতে ঘুমের মধ্যে একটা মজার ঘটনা ঘটেছে।" সিঙাড়ায় কামড় বসাতে বসাতে সন্দীপ হাসে।
সুজাতা রে রে করে তেড়ে ওঠে,-" বাদ দে, তোর স্বপ্নে,করিনা কাপুরের সাথে ডেটিং এর নিউজ টা আর দু'বার নিতে পারব না। খুব হাসি পায় আমার"
-" না রে আজ করিনা কাপুর ছিল না। "
-"তবে? "
-" আজ তো, রিয়া সেন।"
সুজাতা, রিয়ার দিকে তাকায়। -" থাক আর বলতে হবে না।"
-" তোকে কে বলছে রে! দেখছিস না, গত সাত দিন ধরে রিয়ার মুখ টা যেন শুকনো মাছের মতো হয়ে আছে। কোনো ছেলের কাছে ল্যাঙ খেলি নাকি?" সিঙাড়ার শেষটুকু একসাথে মুখের ভেতর ঢুকিয়ে দিয়ে সন্দীপ,রিয়ার দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলে।– "আরে ওরকম হয় সবার জীবনে।আলেয়ার পেছনে ছুটলে কি আর আলো পাওয়া যায়?"
কথাটা যেন গরম তেলে জলের ছিটে পড়ল। রিয়ার সমস্ত রাগ, দু:খ,কষ্ট,অভিমান একসাথে সংঙ্ঘবদ্ধ হয়ে গিয়ে অ্যাটম বোমার মতো আছড়ে পড়ল সন্দীপের উপর।-" তাতে তোর কি রে? তুই কুকুরের মতো আমার পেছনে পড়ে আছিস কেন ?" রিয়া রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ব্যাগ নিয়ে ক্যান্টিন থেকে বেরিয়ে যায়। সুজাতা দাম টা মিটিয়ে, রিয়ার পিছনে ছোটে। অকস্মাৎ এরকম 'কুকুর' উপাধিতে ভূষিত হয়ে হচকচিয়ে গেল সন্দীপ। কথাটা যেন পেরেকের মতো বুকে এসে গেঁথে গেল। মনের মধ্যে যেন একটা কষ্ট মাথা তুলে দাঁড়াতে চাইছে। নিজেকে খুব বোকা বোকা মনে হল আজ। এতদিন তাহলে সেও একটা....মরিচীকার টানে হেঁটে চলেছে!


(৪)

সাত দিনে আবহাওটা অনেক পরিষ্কার হয়েছে। কালো মেঘটা এখন অনেকটা কেটে গেছে রিয়ার মন থেকে। কিন্তু তবুও যেন একটা যন্ত্রনা, ফিউজ কাটা বাল্বের মতো দপ দপ করছে বুকের ভেতর। যন্ত্রনাটা কে ভুলিয়ে দেওয়ার কোনো যন্ত্র খুঁজে পাচ্ছে না সে। কিন্তু যন্ত্রনা টা যে সে ভুলতে চায়।
ক্যান্টিনের কোনের টেবিল টাতে বসে বার বার মেসেনজার টা চেক করছে রিয়া। এই এক সপ্তাহে কত শত বার 'সরি' শব্দটা লিখে বিটকেল সন্দীপ টাকে পাঠিয়েছে,কিন্তু ছেলেটি কোনো রিপ্লাই দেয়নি। সত্যিই তো! রিপ্লাই দেওয়া উচিত ও নয়। সেদিন ওই ভাবে ' কুকুর' বলা টা ঠিক হয়নি। একটু বেশীই রিঅ্যাক্ট করা হয়ে গিয়েছিল সেদিন। হয়তো খুব দু:খ পেয়েছে মনে মনে। আজ এক সপ্তাহ হয়ে গেল সন্দীপ কলেজেও আসছে না। সুজাতার ও কোনো পাত্তা নেই। পরে ফোন করে জেনেছিল,সুজাতার জ্বর। কিছুদিন কলেজে আসতে পারবে না। কিন্তু সন্দীপের কথা জিজ্ঞেস করতে পারেনি।
কলেজ থেকে বেরিয়ে স্কুটি টা সুজাতাদের বাড়ির দিকে ঘোরায় রিয়া। গেট দিয়ে ঢুকতে ঢুকতে নীচের তলায়, চুপি চুপি চোখ বোলায়। সন্দীপ কে কোথাও দেখতে পায় না। উপরে সুজাতার ঘরে গিয়ে দেখে,সুজাতা মড়ার মতো পড়ে আছে। মাথার কাছে ওর মা বসে। রিয়াকে দেখে, উঠে বসে বসার চেষ্টা করে। বসার চেয়ার টা এগিয়ে দেয় সুজাতার মা।- "তোমরা বসে গল্প কর। আমি কিছু খাবার তৈরী করে আনি।"
সুজাতার মা ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই,রিয়া প্রশ্ন টা করে।- "সন্দীপ কে তো নীচে দেখলাম না! ও কোথায় রে?"
রিয়ার কথায়, সুজাতা নড়ে চড়ে বসে। তারপর সোজা হয়ে বলে,-" কেন বলতো! এখনো ওর উপর রেগে আছিস? সেদিনের তোর কথায় ও খুব কষ্ট পেয়েছে রে। আমার সাথেও দু'দিন কথা বলেনি।"
-" হ্যাঁ! খুব রেগে আছি। কোথায় সেটা বল?" রিয়া হাসে।
-" বিকেলে তো ও ছাদেই থাকে, জানি।"
কথাটা শেষ না হতেই, ঝড়ের মতো ঘর থেকে বেরিয়ে যায় রিয়া। ছাদে গিয়ে সন্দীপ কে দেখতে পায়। ফাঁকা ছাদে একটা বাতাসের ঢেউ খেলে যাচ্ছে। পাশের ছাদে দু'টো বাচ্চা, ঘুড়ি নিয়ে কাটাকুটি খেলছে। হলুদ আকাশে বকের দল ডানা মেলেছে। রিয়া চুপি চুপি, সন্দীপের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।- " আমার উপর খুব রাগ হয়েছে?"
চমকে ওঠে রিয়ার দিকে তাকায় সন্দীপ।অনেক টা ভূত দেখার মতো অবস্থা। এরকম আসা সে কোনোদিন করেনি।- " না রে! রাগ করব কেন? একটু মন খারাপ করছিল" সন্দীপ থতমত খেয়ে বলে।
- " আমাকে তোর বন্ধু করে নিবি?"
সন্দীপ যেন একটা ইলেক্ট্রিক শক খায়। ভ্রু কুঁচকে তাকায় রিয়ার দিকে। কি বলছে মেয়েটা? -" তুই তো আমার বন্ধুই।" সন্দীপ একটা বিষন্ন হাসি হাসে।
রিয়া,সন্দীপের আরও কাছে এগিয়ে আসে। একটা হাতের উপর হাত রাখে। তারপর ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,-" শুধু বন্ধু না। খুব কাছের বন্ধু। "
কিছু বলতে পারে না সন্দীপ। বোকার মতো ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। ভূগর্ভস্থ প্লেটের মতো,তার শরীরের ভেতরের প্লেট গুলোও আন্দোলিত হচ্ছে। মনে হয় এখুনি সারা শরীরে সুনামি শুরু হবে।পাশের বড় ছাতিম গাছ থেকে, দু'টো ঘুঘু পাখি ডেকে চলেছে অনবরত। চারিদিক একটু একটু করে রোদ পড়ে আসছে। সন্দীপ কে আরও কোলের কাছে টেনে নিয়ে, তার কাঁধে মাথা রাখল রিয়া।

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৫)

বিশ্ব সেরা রহস্য গল্প পিডিএফ ডাউনলোড(13 mb)। লিঙ্ক: http://destyy.com/qAXOS3

Comments

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

কাশফুল ~ ছোটোগল্প [ Bengali Short Love Story ]

কাশফুল ~ ছোটোগল্প [ Bengali Short Love Story ] — "এবার পূজোয় আসবি তো?" - "কি করব বল! অফিস থেকে একদম ছুটি দিতে চাইছে না।" — "তুই সব সময় অজুহাত দেখাস।" - "বিশ্বাস কর,আমি অফিসার কে অনেক রিকোয়েস্ট করলাম কিন্তু আমাকে সাতটা কথা শুনিয়ে দিল।" —" ভাল লাগে না আমার! কত ভাবি পূজোর সময় তোর হাত ধরে সারা কলকাতা টা ঘুরবো, তোর পাশে বসে অষ্টমীর অঞ্জলি দেব.....।" - "আমার ও খুব ইচ্ছে করে, পূজোটা তোর সাথে কাটাতে।" ফোনের ওপার টা এক মহুর্তের জন্য নিস্তব্দ হয়ে গেল। বললাম—"কি ,রে রাগ করেছিস?" — "না! তোর চাকরীটাই খারাপ। আমি চাকরী টা পেয়ে গেলে তোকে আর ও কাজ করতে দেব না।" - "তাহলে আমার পরিবার, কে দেখবে ?" — "আমি দেখব।" -' আর তোর পরিবার?" - "সেটাও আমি।" — "এত দায়িত্ব নিতে পারবি?" — "তুই আমার কাছে থাকলে, আমি সব পারব।" - "পাগলি একটা!" - "প্লিজ ! আয় না এবার পূজোতে!" - "দেখি একবার শেষ চেষ্টা করে!" —"থাক তোর আসতে হবে না