Skip to main content

Posts

Showing posts from June, 2017

ভৌতিক থ্রিলার " এম.এম.এস "

(১) সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে,চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে বারান্দায় চেয়ার পেতে বসলাম।শীতের সময়।কুয়াশা ভেঙে,রোদ রেলিং এর ফাঁক দিয়ে বারান্দায় এসে পড়ছে।আমি পা দু'টো রোদে ছড়িয়ে দিয়েছি।একটা উষ্ণ অনুভব পেলাম। কিছুক্ষন আগে কাগজওয়ালা,কাগজ দিয়ে গেছে।চায়ের কাপে,একটু করে চুমুক দিচ্ছি,আর কাগজের হেড লাইনে চোখ বোলাচ্ছি।হঠাৎ কলিং বেল টা বেজে উঠল।বিরক্ত হয়ে চায়ের কাপে একটা চুমুক দিয়ে,নীচে নেমে দরজা খুলে দেখি সন্দীপ।এত সকালে সন্দীপের আগমন দেখে একটু অবাকই হয়ে গেলাম।আমাকে দেখে বলল,-"উপরে চ! একটু দরকার আছে।" সন্দীপ আমার কলেজের বন্ধু।কাছের বন্ধু যেমন হয়,ঠিক তেমন।ও এখন সিনেমার সঙ্গে যুক্ত।না,  অভিনয় করে না।টেলিফিল্ম বানায়।অতটা পরিচিত নয়।উপরে উঠে একটা চেয়ার এগিয়ে দিয়ে,সন্দীপ কে বসতে দিলাম।বললাম,-"ভাই, একটু বোস,আমি চা করে আনছি।" -"আরে না,চা-টা লাগবে না।এখুনি খেয়ে আসছি আমি।" সন্দীপ বলল। আমি চেয়ার নিয়ে বসে পড়লাম।এখানে একটু আমার পরিচয় দিয়ে নিই।আমার নাম সমীরন মজুমদার।বয়স আঠাশের কাছাকাছি।একা থাকি। বিয়ে-থা করি নি।একটা স্কুলে ক্লার্কের কাজ করি।সন্দীপ আমার দিকে তাকিয়ে বলল,-"একটা

একটি ছোটগল্প " হট প্যান্ট "

গল্পটি সম্পর্কে  : মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার প্রিয় লেখক দের লেখা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লিখতে।এ গল্পটিও তেমনি আমার প্রিয় লেখক প্রচেত গুপ্তের একটি গল্প থেকে অনুপ্রানিত।শুধু অনুপ্রানিত বলবো না, অনেকাংশে প্লটের মিল আছে।তবে গল্পের থিম বা, বিষয় বস্তু সম্পুর্ন আলাদা। তাই ওনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখাটা লিখলাম। গল্প পড়ূয়া ফেসবুক পেজ ঃ  http://www.facebook.com/golpoporuya (১) বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিরি গরম পড়েছে। ভ্যাপসা গরম।দিনের বেলা যে খুব সূর্যের তাপ, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।তবুও হাঁসফাঁস করে দিন কাটাতে হচ্ছে।বৈশাখের শেষ। আম– কাঁঠাল পাকার পরিবর্তে পচে যাবে বেশি।বৃষ্টি আসতে এখনও অনেক দেরি।এবছর বৃষ্টি আসবেও কিনা,তাতেও সন্দেহ আছে।বাংলার আবহাওয়া বর্তমান অবস্থা,এমন হাস্যকর যে, কোনো কিছুই সঠিক ভাবে বলতে পারেন না আবহাওয়া দপ্তর। রাত দশটা বেজে গেছে।গরম কালে এটা কোনো ব্যাপার নয়।বিশেষত শহরের দিকে তো এটা অনেকটা সন্ধ্যা নামার মতো ব্যাপার।ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানটা বন বন করে ঘুরছে।একটা টেবিল ফ্যান ও আছে কিন্তু তাতেও গরম কাটছে না।টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে রমেন বাবু, একটা ধুতি পরে খালি গায়ে বসে স্কুলের খাতা

একটি অনুগল্প ' দ্বিচারিতা '

কথায় বলে বয়েস হলেও,স্বভাব যায় না। সুরঞ্জনের ও তাই হল।এখনো মেয়ে দেখা স্বভাব টা গেল না।অফিস যাওয়ার সময় রাস্তা দিয়ে ছোটো ছোটো,স্ক্রিন টাইট ড্রেস পড়া কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের দিকে আড় চোখে এখনো তাকায়।উঁকি-ঝুঁকি মারে।সে এক, সময় ছিল।তখন সুরঞ্জন কলেজে পড়তো।প্রায় দিন বন্ধু-বান্ধব রা মিলে কলেজ থেকে চলে যেত নন্দন,ভিক্টোরিয়া।উদ্দেশ্য একটাই-মেয়ে দেখা।এসব জায়গা গুলোতে মেয়েদের ভিড় হয় বেশি। সুরঞ্জনের পুরো নাম,সুরঞ্জন পাত্র।বয়েস চল্লিশের কাছাকাছি।বেশি ও হতে পারে।লম্বা চেহারা,মোটাসোটা,স্বাস্থ্যবান।তবে চেহারায় আগের থেকে একটু বয়েসে ছাপ পড়েছে।হাজার হোক বয়েস টা তো বাড়ছে!কিন্তু এই স্বভাব টা গেল না।বরং আগের থেকে বেড়েছে।একটা বড় প্রাইভেট কোম্পানি তে চাকরী করে সে।বড় পদ,মোটা বেতন।কলেজের সেই সব বন্ধু-বান্ধব আর তেমন নেই।এখন অফিসের বন্ধু-বান্ধব সবাই।প্রায় সমবয়ষ্ক সবাই।সবাই ওই এক রকম।মেয়ে দেখলেই,চোখ হাঁ হয়ে যায়।আর সাথে নিজেদের মধ্যে রসালো আলোচনা।সুরঞ্জন বলে,-"ছোটো ছোটো টাইট ড্রেসে আজকাল কার মেয়ে গুলো কি ঝিনচ্যাক লাগে।ডাগরডোগর চেহারা ফুটে ওঠে।চোখ ঝুড়িয়ে যায়।" তখন একটা হাসির রোল ওঠে বন্ধুদের মধ্যে। পাশ থ

একটি প্রেমের গল্প " গোলাপ "

(১) শূন্যে ভেসে আছি।মহাশূন্যে নয়।এই মুহুর্তে আমার মাটিতে পা নেই....। কিছুক্ষন আগে দমদম বিমান বন্দর থেকে প্লেন টা ছাড়ল।তাই প্লেন টা এখন লম্বা গ্যাস বেলুনের মতো ভেসে আছে। সাথে আমিও।এই প্রথম আকাশ পথে সফর আমার। যদিও এর আগে বাংলার বাইরে গিয়েছি,তবে সেটা ট্রেন পথে। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে,এখন কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছি।মনে পড়ল কথাটা।ভুলে গেলাম নাকি? ধড়ফড় করে উঠল বুকের ভেতর টা।তাড়াতাড়ি ব্যাগের চেন টা খুলে,ভেতরে হাতড়ালাম।কোথায় গেল...কোথায় গেল? অবশেষে খুঁজে পেলাম,গোলাপ ফুল টা।লাল রঙের ফুল।তবে পাপড়ি গুলোতে লালচে রঙ আর নেই, কালচে হয়ে গেছে।মড়া পাতার মতো। তিন দিন হয়ে গেল ফুলটা,ফেলে দিতে পারি নি। সবুজ পাতা গুলো শুকিয়ে এসেছে।পুরানো হয়ে গেলে সব জিনিষেই,একটা মরচে পড়ে,কিছুটা রঙচটা হয়,তবু স্মৃতি গুলো তাদের কে চিরসবুজ রেখে দেয়।কিছুক্ষন অপলক দৃষ্টিতে গোলাপ ফুলটি কে দেখলাম।চোখের সামনে একটু একটু করে ফুল টা ঘুরাচ্ছি।সাথে আমার মাথা টিও ঘুরছে..........! এবার আমার একটু পরিচয় দিই। আমার নাম পলাশ বিশ্বাস।সে বিশ্বাস করুন বা নাই করুন।পাঁচ ফুট আট ইঞ্চির কাছাকাছি উচ্চতা। বয়েস এখনও ছাব্বিশ পেরোই নি। হালকা ফর্সা,রোগ