Skip to main content

একটি অনুগল্প ' দ্বিচারিতা '




কথায় বলে বয়েস হলেও,স্বভাব যায় না।
সুরঞ্জনের ও তাই হল।এখনো মেয়ে দেখা স্বভাব টা গেল না।অফিস যাওয়ার সময় রাস্তা দিয়ে ছোটো ছোটো,স্ক্রিন টাইট ড্রেস পড়া কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের দিকে আড় চোখে এখনো তাকায়।উঁকি-ঝুঁকি মারে।সে এক, সময় ছিল।তখন সুরঞ্জন কলেজে পড়তো।প্রায় দিন বন্ধু-বান্ধব রা মিলে কলেজ থেকে চলে যেত নন্দন,ভিক্টোরিয়া।উদ্দেশ্য একটাই-মেয়ে দেখা।এসব জায়গা গুলোতে মেয়েদের ভিড় হয় বেশি।

সুরঞ্জনের পুরো নাম,সুরঞ্জন পাত্র।বয়েস চল্লিশের কাছাকাছি।বেশি ও হতে পারে।লম্বা চেহারা,মোটাসোটা,স্বাস্থ্যবান।তবে চেহারায় আগের থেকে একটু বয়েসে ছাপ পড়েছে।হাজার হোক বয়েস টা তো বাড়ছে!কিন্তু এই স্বভাব টা গেল না।বরং আগের থেকে বেড়েছে।একটা বড় প্রাইভেট কোম্পানি তে চাকরী করে সে।বড় পদ,মোটা বেতন।কলেজের সেই সব বন্ধু-বান্ধব আর তেমন নেই।এখন অফিসের বন্ধু-বান্ধব সবাই।প্রায় সমবয়ষ্ক সবাই।সবাই ওই এক রকম।মেয়ে দেখলেই,চোখ হাঁ হয়ে যায়।আর সাথে নিজেদের মধ্যে রসালো আলোচনা।সুরঞ্জন বলে,-"ছোটো ছোটো টাইট ড্রেসে আজকাল কার মেয়ে গুলো কি ঝিনচ্যাক লাগে।ডাগরডোগর চেহারা ফুটে ওঠে।চোখ ঝুড়িয়ে যায়।"
তখন একটা হাসির রোল ওঠে বন্ধুদের মধ্যে।
পাশ থেকে তখন কোনো এক বন্ধু বলবে,
-"আজ বাসে আসার আমার পাশে বসা একটা মেয়েকে কি দারুন লাগছিল রে।শরীরের প্রতিটা অলি-গলি সব স্পর্ষ্ট।ওহ!
আমাদের বয়েস কালে এসব আর ছিল কই!"
এরকম ধরনের আরও নানান কথা-বার্তা।

অফিস থেকে ফেরার পথে,বন্ধুরা মিলে বারে
যায় সুরঞ্জন।সব দিন নয়।সপ্তাহে,এক বা দু'দিন।অফিস থেকে বেরিয়ে কিছুটা হেঁটে,ডান দিকের গলি দিয়ে ভিতরে ঢুকলে বার-ড্যান্স ক্লাব টা পড়ে।বন্ধুরা মিলে সেখানে
রঙিন জল পান করে।আর সদ্য যৌবনে পা দেওয়া যুবতী দের নাচ।মদের থেকে,এই নাচ দেখতেই আসে সুরঞ্জন।মঞ্চে লাল,নীল,সবুজ আলোর মাঝে মেয়ে গুলোকে স্বর্গের অপ্সরীর
মতো লাগে।ছোটো ড্রেসে তাদের বুক, পেট,
নাভি সব দেখা দেখা যায়।সুরঞ্জন বন্ধুদের ডেকে বলে,-"এই পোষাকে কি দারুন দেখায় রে মেয়ে গুলো কে।উফ!..। "
নেশা জড়ানো গলায়,পাশ থেকে একটা বন্ধু বলে,-"মেনকা, মেনকা..স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে।"
হেসে ওঠে সবাই।



রবিবারের বিকেল।সূর্যটা মেঘের আড়ালে লুকোচুরি খেলছে।তিনটে বাজতেই সুরঞ্জনের
মেয়ে টিউসান পড়তে বেরিয়ে পড়ে।সুরঞ্জনের
মেয়ের নাম তিতলি।এবার উচ্চমাধ্যমিক দেবে।পড়াশুনায় বেশ ভাল।সায়েন্স নিয়ে পড়াশুনা করে।প্রতি রবিবারে তার কেমিস্ট্রি টিউসান থাকে।মেয়েকে টিউসান যেতে দেখে
ডাকে সুরঞ্জন।তিতলি বাবার সামনে এসে দাঁড়ায়।তার পরনে হাঁটু পর্যন্ত জিনস।উপরে ছোট্ট টপ।শরীরের সাথে সেঁটে আছে।
-"কি বলো, আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে।" বাবা কে বলে তিতলি।
মেয়ের উপর ধমক দিয়ে উঠে সুরঞ্জন।বলল,
-"এসব ড্রেস পরে কখনো বাইরে বেরোবে না।
ভালো দেখায় না।আর কখনো যেন,এসব পরে বাইরে বেরোতে না দেখি।"

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৬)

Comments

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

একটি ছোটগল্প " হট প্যান্ট "

গল্পটি সম্পর্কে  : মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার প্রিয় লেখক দের লেখা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লিখতে।এ গল্পটিও তেমনি আমার প্রিয় লেখক প্রচেত গুপ্তের একটি গল্প থেকে অনুপ্রানিত।শুধু অনুপ্রানিত বলবো না, অনেকাংশে প্লটের মিল আছে।তবে গল্পের থিম বা, বিষয় বস্তু সম্পুর্ন আলাদা। তাই ওনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখাটা লিখলাম। গল্প পড়ূয়া ফেসবুক পেজ ঃ  http://www.facebook.com/golpoporuya (১) বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিরি গরম পড়েছে। ভ্যাপসা গরম।দিনের বেলা যে খুব সূর্যের তাপ, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।তবুও হাঁসফাঁস করে দিন কাটাতে হচ্ছে।বৈশাখের শেষ। আম– কাঁঠাল পাকার পরিবর্তে পচে যাবে বেশি।বৃষ্টি আসতে এখনও অনেক দেরি।এবছর বৃষ্টি আসবেও কিনা,তাতেও সন্দেহ আছে।বাংলার আবহাওয়া বর্তমান অবস্থা,এমন হাস্যকর যে, কোনো কিছুই সঠিক ভাবে বলতে পারেন না আবহাওয়া দপ্তর। রাত দশটা বেজে গেছে।গরম কালে এটা কোনো ব্যাপার নয়।বিশেষত শহরের দিকে তো এটা অনেকটা সন্ধ্যা নামার মতো ব্যাপার।ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানটা বন বন করে ঘুরছে।একটা টেবিল ফ্যান ও আছে কিন্তু তাতেও গরম কাটছে না।টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে রমেন বাবু, একটা ধুতি পরে খালি গায়ে বসে স্কুলের খাতা