Skip to main content

প্রেমের গল্প " দামি উপহার "



(১)

অনেক খোঁজা খুঁজি করেও অনেক সময় মনের মতো জিনিষ পাওয়া যায় না।এমনটা হতেই পারে। ঠিক যেমন টি চাইছেন,তেমনটি পাচ্ছেন না।যেটা দেখছেন,সেটা মনের মতো হচ্ছে না। কিছু না কিছু খুঁত থেকে যাচ্ছে।মধুরিমার ও সেই একই অবস্থা হল।আজ তার স্কুল ছিল।স্কুল বন্ধ করে সারা কলকাতা দুপুরের রোদে টো টো ঘুরে বেড়ালো। তবুও মনের মতো একটা কিছু পেল না।দাম নিয়ে তার কোনো কম্প্রোমাইজ নেই।কিন্তু মনের মতো একটা দামি উপহার সে পেল না।
সামনের রবিবার অভির জন্মদিন।কি গিফট দেবে এখন? বিরক্ত হয়ে খাট থেকে নেমে ফ্যানের রেগুলেটার এক ঘাট বাড়িয়ে দিল মধুরিমা।ঘরের ভেতর হেঁটে বেড়ালো কিছুক্ষন। জয়িতা আর পম্পা পাশের দু'টো খাটে সটান হয়ে শুয়ে আছে।পম্পার কানে ফোন,সারক্ষন বকবক করে চলেছে।আর জয়িতা উপুড় হয়ে বুকের উপর বালিশ দিয়ে ফোনের মেসেঞ্জারে ডুবে আছে।শুধু টকাং টকাং শব্দ আর মুখে হাসির ফুলকি।কি যে সুখ পায় এক সাথে এত গুলো ছেলেকে খেলিয়ে! মধুরিমার এসব একদম ভালো লাগে না।তার শুধু ভালবাসতে ইচ্ছে করে।মাঝে মাঝে স্বপ্নও দেখে রাতে।মনের মানুষটির সাথে হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে ধূ ধূ সবুজের প্রান্তরে।একপাশে খোলা দিগন্ত রেখা। সূর্যটা লাল বলের মতো।একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছে মাঠের ওপারে।আর সেই সবুজ ঘাসের শরীরে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে গড়াগড়ি খেয়ে চলেছে। অথবা,শুষ্ক বরফের উপর দিয়ে তারা ছুটে চলেছে।
কুচি কুচি বরফ বৃষ্টির মতো ঝির ঝির করে পড়ছে দু'জনের মাথার উপর। দুহাত বাড়িয়ে দিয়ে সেই বরফ ধরছে মধুরিমা।আর তার মনের মানুষের চোখে মুখে মাখিয়ে দিচ্ছে।এসব ভাবতে খুব ভালো লাগে তার। রাতের বেলা ঘুমানোর আগেই যেন এই সব দৃশ্য তার চোখে এসে ভাসে।মনে মনে বেশ আনন্দ পায় মধুরিমা। কোল বালিশ টা কাছে টেনে নিয়ে জোরে ঝাপটে ধরে চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে।

(২)

মাস ছ'য়েক আগে অভির সাথে মধুরিমার পরিচয়। মধুরিমা সোনারপুরের একটা স্কুলে পড়ে।ক্লাস টুয়েলভ,সায়েন্স বিভাগ। তাদের টুয়েলভের ক্লাস টা স্কুল মাঠের দক্ষিন দিকের বড় বিল্ডিং টার দোতলায়।প্রতিদিন সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতেই ছেলেটিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। সাড়ে পাঁচ ফুটের ফর্সা চেহারা।লম্বা মুখে খোঁচা খোঁচা গোঁফ দাড়ির রেখা।মাথায় ঘন কালো চুল।জোড়া ভুরু। কিন্তু ছেলেটি যে বড্ড চুপচাপ!সারক্ষন ক্লাসে বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে থাকে। আর ক্লাস থেকে বাইরে বেরিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে। গ্রিলের ভেতর দিয়ে ছেলেটির চোখ সূদুর নীল আকাশে উঁকি দেয়।এরকম শান্ত ছেলেদের তার খুব পছন্দ হয়।কারন সে নিজেই খুব বকবক করতে পারে।আর এরকম শান্তু ছেলেদের সাথে দুষ্টুমি টা বেশ ভালোই জমে। মধুরিমা আড় চোখে মাঝে মাঝে তাকায় ছেলেটির দিকে।
ছেলেটিকে কি তাকে দেখতে পায় না?না,দেখেও না দেখার ভান করে! বেশকিছু দিন ধরে এরকম মনমরা, উড়ু উড়ু ভাব দেখে একদিন রাতে জয়িতা জিজ্ঞেস করেছিল,-"ওই এত মনমরা কেন রে?"
-"ভালো লাগছে না।" মধুরিমা বলেছিল।
-"কেন?আমাকে বল,কি হয়েছে! প্রেম কেস হলে এক মিনিটে সলটে দেব।"
জয়িতা এমনিতেই ঠোঁটকাটা মেয়ে।কোনোকিছু মুখে আটকায় না।আরএসব প্রেমের ব্যাপারে অগাধ অভিজ্ঞাতা।সেই ক্লাস ফোর থেকে প্রেম করে আসছে সে।কিন্তু এখনো একটা কে পার্মানেন্ট করেনি।হয়তো একটা সেঞ্চুরির লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। কথাটা বলবে না,বলবে না করেও মুখ ফসকে বলে ফেলেছিল মধুরিমা।-"আমি না, একটা ছেলের প্রেমে পড়েছি মনে হয়।"
পম্পা পাশের খাট থেকে ছুটে এসে হুড়মুড় খেয়ে পড়েছিল তার গায়ের উপর।-"ওই,কে সে? আমাদের ক্লাসে পড়ে?লম্বা তো?হ্যান্ডসাম? জিম করে?সিক্স প্যাক আছে?"
এক সাথে হাজার খানেক প্রশ্ন।পম্পার মাথায় একটা ছোটো গাট্টা মেরে জয়িতা বলেছিল,-"হ্যাঁ,ও তো,তোর মতো উঁকি মেরে দেখেছে যে কোথায় কটা প্যাক আছে।তোর মালটা জিম করে বলে সবাইকে জিম করতে হবে?"
পম্পা আর কথা বলেনি।শেষ পর্যন্ত জয়িতাই কেস টা হ্যান্ডেল করে।দেখা গেছে,বন্ধুরা আর কোনো ব্যাপারে সাহয্য করতে এগিয়ে না এলেও, প্রেমের ব্যাপারটিতে সবার আগে এগিয়ে আসে। একদিন টিউসান থেকে ফিরে জয়িতা ধপ করে খাটের উপর বসে পড়ে বলেছিল,-"ডাটা সব ডিটেইলসে রেডি,শধু এখন প্রোজেক্টের কাজ টা শুরু করতে পারলে হয়।"
মধুরিমা চোখ গুলো বড় বড় করে বলেছিল,-"কি প্রোজেক্ট?"
-"তোর প্রেমের প্রোজেক্ট।ছেলেটির সাথে আমার কথা হয়ে গেছে।ওর নাম অভিরাজ।সবাই ছোটো করে অভি বলেই ডাকে।লোকাল প্রোডাক্ট নয়, বাড়ি গোপাল নগর।এখানে, আমাদের মতোই একটা ছেলেদের মেসে থাকে। ব্রাইট স্টুডেন্ট।উজ্বল ভবিষ্যৎ।বিড়ি,সিগারেট খাওয়ার অভ্যেস নেই।মদ টা জানি না।ওটা তুই জেনে নিস।আর আগে কোনো মেয়ের সাথে চক্কর ছিল বলে তো আমার মনে হয় না।" ঝড়ের মতো কথা গুলো বলে জয়িতা থামলো।
মধুরিমার মুখটা হাঁ হয়ে গিয়েছিল।তাই দেখে জয়িতা বলেছিল,-"হাঁ করে কি দেখছিস! এবার আদা জল খেয়ে লেগে পড়।"
কিছুদিন পর প্রাকটিক্যাল ক্লাস শেষে জয়িতাই অভির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় মধুরিমার। একটু হলেও লজ্জা লাগছিল তার।এভাবে কোনো ছেলের সাথে আগে কথা বলেনি। স্কুল বিল্ডিং টার একপাশে দাঁড়িয়ে লুকিয়ে কথা বলছিল দু'জন।একটু ভুল হল,কথা কিছুই হচ্ছিল না। বেশিরভাগ সময় চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা,হাসি মুখে একটু একটু তাকানো।মধুরিমা তার বুকের উপর দিয়ে যাওয়া ব্যাগের ফিতে টা, আনমনা ভাবে হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে টানছিল।তারপর দশ মিনিট চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে বেরিয়ে এসেছিল দু'জন। এসব ছ'মাস আগের কথা।এখন আর সেই লাজুক লাজুক ব্যাপার টা নেই।

(৩)

জয়িতার মেসেঞ্জারের টকাং টকাং শব্দ বন্ধ। খাটের উপর উঠে বসেছে। মধুরিমার এমন ডিটেকটিভ গল্পের গোয়েন্দার মতো হেঁটে বেড়ানো দেখে বলল,-" এরকম চক্কর মারছিস কেন?"
-"ধুর! মনের মতো একটা গিফট খুঁজে পেলাম না।" মধুরিমা বলল।
পাশ থেকে পম্পা পিন মারলো। বলল,-" অত খোঁজ করার কি আছে?কামসূত্র বই টা কিনে দে।
ভবিষ্যৎ এ কাজেও লাগবে।তোর মাল টা বই পাগল।ক্লাসেও সারক্ষন বই নিয়ে বসে থাকে।" হো হো হো করে হেসে উঠল পম্পা আর জয়িতা।
বিরক্ত হয়ে খাটের উপর বসে পড়ল মধুরিমা।-"ধুর! গত ছ'মাসে অনেক বই গিফট করেছি। পরিচয়ের পর এই প্রথম জন্মদিন।একটু অন্যকিছু না দিলে ভালো লাগে!"
-"সারা কলকাতা ঘুরে কিছুই পেলি না?" জয়িতা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো।
-"মনের মতো একটা জিনিষ পেলাম না।"
-"তাহলে কি করবি?"
মধুরিমা ভাবতে শুধু করলো।রাতে ঘুম এলো না। সারারাত ভাবলো।কিছুই মাথায় আনতে পারলো না।রবিবার বিকালে তবে খালি হাতেই অভির সাথে ঘুরতে যাবে?কি ভাববে অভি?

(৪)

শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই যেতে হল মধুরিমা কে। রবিবার বিকালবেলা সোনারপুর প্লার্টফর্মে দেখা করলো দু'জন। মধুরিমার পরনে গোলাপি রঙের কামিজ।কাঁধে একটা ছোটো রঙিন ব্যাগ।পায়ে অল্প হিলের জুতো।কপালের উপর থেকে কিছু চুল উড়ে এসে চোখের উপর পড়ছে।বাঁহাতের সরু সরু ফর্সা আঙুল গুলো দিয়ে চুল গুলো কানের উপর তুলে দিয়ে মধুরিমা, অভিকে বলল,-"এই কোথায় ঘুরতে যাবি?এখনো বললি না কিন্তু!"
-"চল না,আমার সাথে।কোনো একটা জায়গায় গেলে হল।" অভি টিকিট কাউন্টার থেকে দু'টো টিকিট কেটে নিল।

সোনার পুর থেকে ট্রেন চেপে একটা ছোটো ফাঁকা গ্রাম্য হল্ট স্টেশনে নেমে পড়ল ওরা দু'জন।এখানে সব ট্রেন দাঁড়ায় না।সকালের দিকের আর সন্ধ্যার দিকের কিছু ট্রেন দাঁড়ায়।তাই সারক্ষন প্রায় ফাঁকাই পড়ে থাকে।প্লার্টফর্মের উপর ছোটো একটা স্টেশন মাস্টারের ঘর।দু'টো সবুজ প্লাস্টিকের শেড। সারি সারি নারকেল গাছের চারা ইটের সারি
দিয়ে গোল করে ঘিরে রাখা।একটা ছোটো চা-বিস্কুটের দোকান।
-"এদিকে আগে কোনোদিন আসেনি।"মধুরিমা চারিদিকে একবার তাকিয়ে বলল।
-"সেই জন্যেই তো,তোকে নিয়ে এলাম।"
হাসল অভি।

ওরা দু'জন একটা প্লার্টফর্মের শেষ প্রান্তের দিকে
একটা বেঞ্চের উপর গিয়ে বসলো।শান্ত বিকেল।
দক্ষিনের খোলা মাঠের উপর দিয়ে ঠান্ডা ছুটে এসে জড়িয়ে ধরছে। কিছুক্ষন বসে,আবার উঠে পড়লো ওরা।প্লাটফর্ম থেকে একটা মাটির
রাস্তা ফাঁকা মাঠের উপর দিয়ে চলে গেছে দুরের
গ্রামের মধ্যে।ওরা দু'জন সেই পথ ধরল।অভির হাত টা মধুরিমার হাতের মধ্যে।রাস্তার দু'পাশে সবুজ ঘাসের চাদড়।একটা ভাল জায়গা দেখে বসে পড়ল ওরা।সামনে মাঠের মধ্যে ছোটো ডোবা পুকুর।একটা ব্যাঙ পাড় থেকে লাফিয়ে পড়ল জলের ভেতর।জল নড়ে উঠল। কিছুক্ষনের মধ্যে আবার শান্ত হয়ে গেল। অভির চোখের দিকে তাকিয়ে মধুরিমা বললো,-"হ্যাপি বার্থ ডে।"
অভি হাসলো।শান্ত হাসি।-"থ্যাঙ্ক ইউ।"
-"তোর জন্যে একটা উপহার এনেছি।সব
থেকে দামি উপহার।" মধুরিমা অভির হাত টা নিজের কাছে টেনে নিল।
-"কি উপহার ?নিশ্চয়,প্রেমের কোনো উপন্যাস!"
-"উহু! আর বই নয়।আগে চোখটা বন্ধ কর।একদম খুলবি না।তবেই দেখাবো।"

অভি চোখ দু'টো বন্ধ করল।বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতে শুরু করেছে।আকাশে বক পাখিরা ডানা মেলে ঘরে ফিরছে।একটা নাম না জানা পাখি চিৎকার করে ওদের পাশ দিয়ে উড়ে গেল।আর মধুরিমা আস্তে আস্তে ঠোঁট দু'টো অভির মুখের কাছে নিয়ে গিয়ে একটা আলতো করে চুমু খেল গালে। চল্লিশ সেকেন্ড পর ঠোঁট তুলে কানের কাছে চাপা স্বরে মধুরিমা বললো,-" এটাই তোর জন্মদিনের উপহার।"

তখন সন্ধ্যা নেমে গেছে মাঠের উপর।

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৬)

Comments

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

একটি ছোটগল্প " হট প্যান্ট "

গল্পটি সম্পর্কে  : মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার প্রিয় লেখক দের লেখা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লিখতে।এ গল্পটিও তেমনি আমার প্রিয় লেখক প্রচেত গুপ্তের একটি গল্প থেকে অনুপ্রানিত।শুধু অনুপ্রানিত বলবো না, অনেকাংশে প্লটের মিল আছে।তবে গল্পের থিম বা, বিষয় বস্তু সম্পুর্ন আলাদা। তাই ওনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখাটা লিখলাম। গল্প পড়ূয়া ফেসবুক পেজ ঃ  http://www.facebook.com/golpoporuya (১) বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিরি গরম পড়েছে। ভ্যাপসা গরম।দিনের বেলা যে খুব সূর্যের তাপ, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।তবুও হাঁসফাঁস করে দিন কাটাতে হচ্ছে।বৈশাখের শেষ। আম– কাঁঠাল পাকার পরিবর্তে পচে যাবে বেশি।বৃষ্টি আসতে এখনও অনেক দেরি।এবছর বৃষ্টি আসবেও কিনা,তাতেও সন্দেহ আছে।বাংলার আবহাওয়া বর্তমান অবস্থা,এমন হাস্যকর যে, কোনো কিছুই সঠিক ভাবে বলতে পারেন না আবহাওয়া দপ্তর। রাত দশটা বেজে গেছে।গরম কালে এটা কোনো ব্যাপার নয়।বিশেষত শহরের দিকে তো এটা অনেকটা সন্ধ্যা নামার মতো ব্যাপার।ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানটা বন বন করে ঘুরছে।একটা টেবিল ফ্যান ও আছে কিন্তু তাতেও গরম কাটছে না।টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে রমেন বাবু, একটা ধুতি পরে খালি গায়ে বসে স্কুলের খাতা