Skip to main content

দুটি বিরহ প্রেমের কবিতা



লাল মাটির দ্যাশ

মনে পড়ে তর. .
অ্যাকদিন তুকে অ্যানেছিলাম
হামার লাল মাটির দ্যাশে
তর কইলকাতার গাড়ি,বাস,ট্রাম রাস্তা
সব ভুলে গ্যেলি
ছুটে চল্যে গেল্যি লদীর পাড়ে
অ লদী অ্যামাকে লিয়ে যাবি তুর কাছে,
অ্যামাকে ভালবাইসবি........
আচল ভরে লাল পাথুর কুড়াইলি
ফাগুন মাসের শেমুল বনে
গলা ছ্যাড়ে পাখির সুরে গান গাইলি;
গেরামের বাচ্চা গুলোর সাথে....
কত আনন্দ করলি;
আমি শুধু তুকে দ্যাখতম্
তুকে লিয়ে যেতম লদীর পাড়ে
লিয়ে যেতম সবুজ ঘাসের মাঠে;
তুই মাঝে মাঝে হামার হাত ধরে
চলতিস্ আর দেখতিস্..
লাল ম্যাঘের আকাশ।
বিকেল বেলায় লদীর পাড়ে গিয়ে
দুজনে বসে থাকতম্
কত হাসি গপ্প করতম্
মনে মনে ভাবতম্...........
তুকে কদম ফুলের মালা দিব
লাল মাটির সুবাস দিব
লাল পাথুরের লুড়ি দিব
আমার ভালবাসা দিব
কিন্তু কিছুই দিতে পারলম না..........
অ্যাকদিন ফিরে গ্যেলি
তুর কইলকাতায়,
অ্যাকা করে গেলি.......
সেই শেমুল বন, সবুজ ঘাসের মাঠ;
অ্যাকা করে গ্যেলি আম্যাকে অ
এই লাল মাটির দ্যাশে................।।





সে


সে আমার প্রথম চাওয়া–পাওয়া
সে আমার প্রথম স্বপ্ন–আশা;
সে ছিল আমার প্রিয়তমা–
সে যে ছিল আমার প্রথম ভালবাসা।

সে ছিল আমার প্রথম দেখা অপ্সরা
সে যে ছিল শিউলি ঝরা রাত,
সে ছিল আমার বেঁচে থাকা
আমার হৃদয়ের প্রস্ফুটিত গোলাপ।

সে আমার প্রথম দেখা নীলপরী
সে ছিল আমার জীবনের আলো;
সে ছিল আমার স্বপ্নের রাজকন্যে,
যাকে আমি বেসেছিলাম ভাল।

সে ছিল আমার কবিতার ভেতর
সে ছিল আমার মনের মাঝে,
হঠাৎ করে কোথায় গেল চলে
এখনো তারে পাইনি আমি খুঁজে।।

স্বদেশ (২০০৯)

Comments

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

একটি ছোটগল্প " হট প্যান্ট "

গল্পটি সম্পর্কে  : মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার প্রিয় লেখক দের লেখা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লিখতে।এ গল্পটিও তেমনি আমার প্রিয় লেখক প্রচেত গুপ্তের একটি গল্প থেকে অনুপ্রানিত।শুধু অনুপ্রানিত বলবো না, অনেকাংশে প্লটের মিল আছে।তবে গল্পের থিম বা, বিষয় বস্তু সম্পুর্ন আলাদা। তাই ওনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখাটা লিখলাম। গল্প পড়ূয়া ফেসবুক পেজ ঃ  http://www.facebook.com/golpoporuya (১) বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিরি গরম পড়েছে। ভ্যাপসা গরম।দিনের বেলা যে খুব সূর্যের তাপ, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।তবুও হাঁসফাঁস করে দিন কাটাতে হচ্ছে।বৈশাখের শেষ। আম– কাঁঠাল পাকার পরিবর্তে পচে যাবে বেশি।বৃষ্টি আসতে এখনও অনেক দেরি।এবছর বৃষ্টি আসবেও কিনা,তাতেও সন্দেহ আছে।বাংলার আবহাওয়া বর্তমান অবস্থা,এমন হাস্যকর যে, কোনো কিছুই সঠিক ভাবে বলতে পারেন না আবহাওয়া দপ্তর। রাত দশটা বেজে গেছে।গরম কালে এটা কোনো ব্যাপার নয়।বিশেষত শহরের দিকে তো এটা অনেকটা সন্ধ্যা নামার মতো ব্যাপার।ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানটা বন বন করে ঘুরছে।একটা টেবিল ফ্যান ও আছে কিন্তু তাতেও গরম কাটছে না।টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে রমেন বাবু, একটা ধুতি পরে খালি গায়ে বসে স্কুলের খাতা