Skip to main content

বাংলা কবিতা "সেই ছেলেটি "


তোমরা সেই ছেলেটি কে কেউ দেখেছো?কেউ চেনো তাকে?
সেই যে,সেই ছেলেটি......
যে ছেলেটি স্বপ্ন দেখেছিল মানুষের মত মানুষ হওয়ার,সাধরন মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকার।কিন্তু পারল না.......।
যে,কল্পনার সমুদ্রে পাল তোলা জাহাজের মতো ভেসে বেড়াতো,
তুলি দিয়ে আকাশের রামধনু আঁকতে চেয়েছিল;
একলা রাতে জোছনালোকে বসে চাঁদের দিকে চেয়ে বলতো,'ও চাঁদ,নিয়ে যাবি তোর দেশে?'

কিন্ত চাঁদের বুড়ি তাকে ডাকলো কই?

যাকে,একটু বকাবকি করলে বাচ্চাদের মতো কেঁদে ফেলতো।খুব যন্ত্রনা পেলে,লুকিয়ে চোখের জল ফেলতো,তবু কষ্টের কথা কাউকে জানাতো না।


কেউ কি দেখেছো তাকে?

সেই যে,সেই ছেলেটি......
যে,নিজের সমস্ত দু:খ,কষ্ট,যন্ত্রনাকে লুকিয়ে রেখে, অন্যদের কে আনন্দ দিত।সবার চাহিদা, প্রত্যাশা পুরন করল,কিন্তু নিজের জন্যে কোনোদিন কিছু চাইলো না।

যার,রোগা-পাটকাঠির মতো চেহারা; অসুন্দর মুখশ্রী।তবুও সে ভালোবেসে ফেলল, সৌন্দর্যের পূজারিণী কে।অসহায় ভাবে একটু শান্তি চেয়েছিল,একটু ভালোবাসা,একটু আশ্রয়,
কিন্তু পায়নি সে সব.........।

কোথায় আছে এখন সে? তোমরা কেউ কি দেখেছো?
সেই যে,সেই ছেলেটি......

যে,ভালবাসার জন্যে সর্বস্ব ত্যাগ করে, একা হয়ে গেল এই সাতশো কোটি মানুষের মাঝে।নিজের কে একটু একটু করে নিয়ে গেল মৃত্যু খাদের কিনারে।

সেই যে,সেই ছেলেটি.....
যার,ভেতরটা পুড়তে পুড়তে বাইরে টা মায়া-মমতাহীন হয়ে গেছে।তবুও অন্যের যন্ত্রনায় এখনো ব্যাথা পায়। অন্যের কষ্টে এখনো তার চোখে বৃষ্টি নামে....।

সেই যে,সেই ছেলেটি.......
যে,চিরদিনের জন্য হাসতে ভুলে গিয়েছিল।একটু একটু করে সকলের অনাদরে হারিয়ে গেল মনুষ্যজীবন থেকে......।

তোমরা সেই ছেলেটিকে কেউ দেখেছো?কেউ চেনো তাকে?আমি তাকে অনেক দিন থেকে খুঁজছি।
মাঠ-ঘাট,অলি-গলি,নির্জন রাস্তা,সবুজ ধান ক্ষেত,মরে যাওয়া নদীর বাঁকে,ফুটপাত,বাস স্ট্যান্ড,স্টেশন চত্বর...... কোথাও পাচ্ছি না।
আমার ওই ছেলেটিকে চাই।
আমিই ভালোবাসবো তাকে।

তোমরা কেউ দেখেছো ছেলেটিকে?
কেউ চেনো তাকে....?

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৬)

Comments

Popular posts from this blog

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

একটি প্রেমের গল্প " অসমাপ্ত প্রেমের পাঁচ বছর পর "

(১) মাঝে মাঝে মনে হয়,জীবনে ভালবাসা কেন আসে,আর আসলেও কেনই বা চলে যায়? যদি চলে যায়,পরে কি আবার তাকে ফিরে পাওয়া যায়? হয়তো বা যায়। আবার নাও পাওয়া যেতে পারে। যদিও বা পাওয়া যায়,তাকে কি নিজের করে নেওয়া যায়?সবাই পারে না, কেউ কেউ পারে। এটা তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে।গল্প শুরুর আগে হয়তো অনেক বকবক করে ফেললাম! আপনারা হয়তো বিরক্ত হয়ে উঠেছেন। যাইহোক এবার আসল গল্পটা বলি। যেদিন প্রথম কলেজে উঠলাম,সেদিনই বুঝে গিয়েছিলাম এ মেয়ে আমার পড়াশুনার বারোটা বাজানোর জন্যই এই কলেজে ভর্তি হয়েছে। বাংলা ডিপার্টমেন্টের এত ঝাঁকে ঝাঁকে মেয়ের মধ্যেও,সে যে আলাদা করে সবার কাছে চোখে পড়ার মত।আর দুর্ভাগ্যবশত সেটা আমার ও চোখে পড়ে গেল।সদ্য আঠেরো তে পড়েছি। মনের মধ্যে একটা শিহরন, রোমান্স,উশখুশ, ফ্যান্টাসি ভাব যে তৈরী হচ্ছিল সেটা ভালই টের পাচ্ছিলাম। ওরকম দুধের মতো গায়ের রঙ, টানা–টানা চোখ,মাথার ঘন কালো চুল পিঠের মাঝ বরাবর ছড়ানো,উন্নত বুক,চিকন চেহারা দেখলে মনের ভেতর একটা ভূমিকম্প, উথাল পাথাল তরঙ্গমালা তৈরী হয়। সে যেন বন্য হরিনী! স্থির,শান্ত,মনোহরিনী তার চোখের চাহনি ভোলবার নয়।সারা শরীরে, সারাক্ষন একটা চপলতার ভা