Skip to main content

অনুগল্প "পাগল টাইপের লোকটা "




পড়ন্ত বিকেলের স্টেশন। আকাশ টা যেন গায়ে, হলুদ মেখেছে। দুরে ইউক্যালিপটাস গাছের পাতা গুলো হাওয়ার তালে তালে মাথা নাড়াচ্ছে। অনেক আগেই ট্রেন চলে গেছে তাই স্টেশন টা একটু ফাঁকা ফাঁকা।কয়েকজন কুলি আর স্টেশন দোকানি প্লাটফর্মের উপর।প্লাটফর্মের উপর একটি আম গাছের নীচে পাতা বেঞ্চ টিতে বসে লোকটি আনমনে হলুদরঙা আকাশটির দিকে তাকিয়ে ছিল। প্রায় পঁয়তাল্লিশের কাছাকাছি লোকটির বয়স। মাথায় এলোমেলো লম্বা লম্বা চুল, মুখ ভর্তি সাদা কালো খচখচে গোঁফ দাড়ি। পরনে রঙ চটা একটা জামা, প্যান্ট। প্রথম দৃষ্টিতেই লোকটিকে পাগল মনে হবে,কিন্তু সাধরন পাগলদের মতো তার হাব ভাব নয়। পাশে রাখা সুটকেসের উপর হাত রেখে একদৃষ্টে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।

বেশ কিছুসময় পর আরেকটি ট্রেন এসে ঢুকল স্টেশনে। একমুহুর্তে মানুষের কোলাহল ছড়িয়ে পড়ল সারা প্লার্টফর্মটিতে। লেডিস কামরা থেকে একটি মেয়ে নেমে এগিয়ে আসছে এদিক টাতে। মেয়েটির বয়স খুব বেশী নয়,তা কুড়ি, একুশ হবে। লোকটি মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছে একদৃষ্টে,- সেই, মুখ...সেই চুল,...সেই ঠোঁট...সেই হাঁটার স্টাইল....বিদিশা! অস্ফুট স্বরে লোকটি বলে উঠল।
মেয়েটি এখন লোকটির কাছে এসে পড়েছে। হঠাৎ লোকটি উঠে মেয়েটির হাত ধরল," — বিদিশা! আমাকে চিনতে পারছ? আমি ... আমি...তোমার....!"
একটা ঝটকায় মেয়েটি হাত ছাড়িয়ে নিল।-" কে, আপনি? আমি বিদিশা নই। আমি রিয়া।"
লোকটি বিশ্বাস করল না। আবার কাঁপা কাঁপা হাতে মেয়েটির হাত ধরল।- "না! তুমিই বিদিশা। তোমার মুখ, চোখ, ঠোঁট বলছে ..তুমিই বিদিশা। কিন্তু তুমি সেই একই রকম আছ কি করে? দেখ, আমি কত বুড়ো হয়ে গেছি।"
মেয়েটি চিৎকার করে উঠল,— "হাত ছাড়ুন। অভদ্রতার একটা সীমা আছে! বুড়ো হয়ে মরতে গেলেন তবুও এখনো বদ অভ্যাস গুলো যায়নি?"
চারিদিকে লোক জোড়ো হয়ে গেছে। ষন্ডামার্কা কয়েকটি লোক এসে দু একটা চড় থাপ্পড় মেরে পাগল টাইপের লোকটিকে বিদায় করল। আরও মারতে যাচ্ছিল,কিন্তু মেয়েটি থামিয়ে দিল।
বাড়ি ফিরে মেয়েটি জামা খুলতে খুলতে তার মাকে বলল, -"জানো মা! আজ না,প্লাটফর্মে একটা বিশ্রী মজার ব্যাপার ঘটেছে।"
- "কি ?"
-" আর বলো না, একটা পাগল এসে আমার হাত জড়িয়ে ধরে,তোমার নাম করে ডাকছিল।এত করে বলছি,— আমি বিদিশা নই,তবুও কথা শুনছে না। শেষে মেরে ধরে ভাগাতে হল পাগল টা কে।"
- "লোকটি কে মেরেছিস?" -মেয়েটির মায়ের গলা যেন কেমন কাঁপা কাঁপা মনে হল।
গোলাপি রঙের নাইটি টা পরে নিয়ে মেয়েটি , মায়ের গলা জড়িয়ে ধরল।— "মা, আমি একদম তোমার মতো দেখতে হয়েছি না?
 - "হ্যাঁ! একদম আমার মতো।"
-" মা, তুমি কাঁদছ কেন? "

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৫)

Comments

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

একটি ছোটগল্প " হট প্যান্ট "

গল্পটি সম্পর্কে  : মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার প্রিয় লেখক দের লেখা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লিখতে।এ গল্পটিও তেমনি আমার প্রিয় লেখক প্রচেত গুপ্তের একটি গল্প থেকে অনুপ্রানিত।শুধু অনুপ্রানিত বলবো না, অনেকাংশে প্লটের মিল আছে।তবে গল্পের থিম বা, বিষয় বস্তু সম্পুর্ন আলাদা। তাই ওনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখাটা লিখলাম। গল্প পড়ূয়া ফেসবুক পেজ ঃ  http://www.facebook.com/golpoporuya (১) বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিরি গরম পড়েছে। ভ্যাপসা গরম।দিনের বেলা যে খুব সূর্যের তাপ, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।তবুও হাঁসফাঁস করে দিন কাটাতে হচ্ছে।বৈশাখের শেষ। আম– কাঁঠাল পাকার পরিবর্তে পচে যাবে বেশি।বৃষ্টি আসতে এখনও অনেক দেরি।এবছর বৃষ্টি আসবেও কিনা,তাতেও সন্দেহ আছে।বাংলার আবহাওয়া বর্তমান অবস্থা,এমন হাস্যকর যে, কোনো কিছুই সঠিক ভাবে বলতে পারেন না আবহাওয়া দপ্তর। রাত দশটা বেজে গেছে।গরম কালে এটা কোনো ব্যাপার নয়।বিশেষত শহরের দিকে তো এটা অনেকটা সন্ধ্যা নামার মতো ব্যাপার।ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানটা বন বন করে ঘুরছে।একটা টেবিল ফ্যান ও আছে কিন্তু তাতেও গরম কাটছে না।টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে রমেন বাবু, একটা ধুতি পরে খালি গায়ে বসে স্কুলের খাতা