Skip to main content

একটি প্রেমের কবিতা " ইচ্ছে করে "



মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে
হারিয়ে যেতে তেপান্তরে
সবুজ ঘেরা শাল-মহুয়ার বনে,
বুনো ফুলের গন্ধ মেখে
হলুদ নদীর আঁকে বাঁকে
বরফ ঢাকা নীল পাহাড়ের
ছোট্টো ঘরের কোনে।

ইচ্ছে করে হাওয়ায় ভেসে
পালিয়ে যেতে পরীর দেশে
লাল পলাশের বনের চারিধারে,
সোনালী ধানের মাঠের মাঝে
তুলো মেঘের নীল আকাশে
জোস্না ঢাকা জংলী নদীর পাড়ে।


ইচ্ছে করে নি:ঝুম রাতে
কালো আকাশের চাঁদ–তারাতে
তোমায় নিয়ে একলা বসে থাকি,
ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকের সাথে
গন্ধরাজের সুবাসেতে
তোমার কোলে একটু মাথা রাখি।

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১২)

Comments

  1. সবার ইচ্ছে গুলো সত্যি আপনার "ইচ্ছে করে" কবিতার মতন। খুব ভালো। মনের কথা বলে........

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

কাশফুল ~ ছোটোগল্প [ Bengali Short Love Story ]

কাশফুল ~ ছোটোগল্প [ Bengali Short Love Story ] — "এবার পূজোয় আসবি তো?" - "কি করব বল! অফিস থেকে একদম ছুটি দিতে চাইছে না।" — "তুই সব সময় অজুহাত দেখাস।" - "বিশ্বাস কর,আমি অফিসার কে অনেক রিকোয়েস্ট করলাম কিন্তু আমাকে সাতটা কথা শুনিয়ে দিল।" —" ভাল লাগে না আমার! কত ভাবি পূজোর সময় তোর হাত ধরে সারা কলকাতা টা ঘুরবো, তোর পাশে বসে অষ্টমীর অঞ্জলি দেব.....।" - "আমার ও খুব ইচ্ছে করে, পূজোটা তোর সাথে কাটাতে।" ফোনের ওপার টা এক মহুর্তের জন্য নিস্তব্দ হয়ে গেল। বললাম—"কি ,রে রাগ করেছিস?" — "না! তোর চাকরীটাই খারাপ। আমি চাকরী টা পেয়ে গেলে তোকে আর ও কাজ করতে দেব না।" - "তাহলে আমার পরিবার, কে দেখবে ?" — "আমি দেখব।" -' আর তোর পরিবার?" - "সেটাও আমি।" — "এত দায়িত্ব নিতে পারবি?" — "তুই আমার কাছে থাকলে, আমি সব পারব।" - "পাগলি একটা!" - "প্লিজ ! আয় না এবার পূজোতে!" - "দেখি একবার শেষ চেষ্টা করে!" —"থাক তোর আসতে হবে না