Skip to main content

একটি প্রেমের কবিতা " অনসূয়া "



অনসূয়া,
চলো, বৃষ্টি ভেজা সবুজ পাহাড়ের বুকে মাথা রাখি। দুহাতে জড়িয়ে কোলে তুলে নেব তোমায়। চা পাতার মতো তোমার চোখের পলক থেকে পাহাড়ি বর্ষা টুপ টুপ করে পড়ে আমার ঠোঁট ছুঁয়ে দেবে।
..... বর্ষাতি মুড়ে হেঁটে যাব আঁকা-বাঁকা পাথুরে পাহাড়ি রাস্তায়;
তোমার হাতে আমার হাত
তোমার মনে আমার মন
অথবা, তোমার ঠোঁটে আমার ভেজা আঙুল।

অনসূয়া,
চলো, চেরাপুঞ্জির বৃষ্টিতে স্নান করে আসি। তোমার চুলের মতো কালো মেঘ গুলো কে চুরি করে এনে রেখে দিই, আমার ছাদের উপর;
তোমার পরশের আদরে মেঘেরা কাঁদবে
বৃষ্টি নামবে,
অন্তহীন ভিজবো
বর্ষা ময়ূরী হবে তুমি।
.....অথবা, বর্ষনসিক্ত হেঁতাল বন।

অনসূয়া,
চলো,মেঘের ভেলায় চড়ে ঘুরে আসি নীল
আকাশের দেশে; বক ফুলের মতো থোকা থোকা মেঘ ভেঙে, বালি হাঁসের পালকের মতো তোমার চুলে পরিয়ে দেব ।
মেঘ সমুদ্রের বেলাভূমি তে রেখে আসবো তোমার আমার পায়ের ছাপ,
ঠোঁটের আদর....।
... একটা রাত কাটাবো মেঘের দেশে।
রামধনু শাড়িে মেঘের ঘাটে বসে থাকবে তুমি, স্বপ্নটানা রাত; আকাশের কপাল থেকে, দশটা তারার ঝিকমিক এনে পরিয়ে দেবো,
তোমার হাতের আঙুলে.....।

অনসূয়া,
চলো, তালবন ঘেরা পদ্ম দিঘির জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকবো,
সন্ধ্যে নামবে
পাখিরা ফিরবে বাসায়
জোনাক জ্বলবে
কালো হবে দিঘির জল
তখন তোমার কাঁধে আমার মাথা;
ভালোবাসার গল্প তৈরী হবে..................।

অনসূয়া,
তোমার চোখের অতলে, বাবুই পাখির মতো স্বপ্নের বাসায় আমি আশ্রয় খুঁজেছি,
তোমার হাত ধরে হাঁটতে চেয়েছি, শালবনের ভিতর দিয়ে লাল মাটির রাস্তায়;
বাঁচতে চেয়েছি, তোমার গল্প-কথার মধ্যে।
হয়তো তুমিও সেটা জানো না.........!


স্বদেশ কুমার গায়েন ( ২০১৬)

Comments

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

কাশফুল ~ ছোটোগল্প [ Bengali Short Love Story ]

কাশফুল ~ ছোটোগল্প [ Bengali Short Love Story ] — "এবার পূজোয় আসবি তো?" - "কি করব বল! অফিস থেকে একদম ছুটি দিতে চাইছে না।" — "তুই সব সময় অজুহাত দেখাস।" - "বিশ্বাস কর,আমি অফিসার কে অনেক রিকোয়েস্ট করলাম কিন্তু আমাকে সাতটা কথা শুনিয়ে দিল।" —" ভাল লাগে না আমার! কত ভাবি পূজোর সময় তোর হাত ধরে সারা কলকাতা টা ঘুরবো, তোর পাশে বসে অষ্টমীর অঞ্জলি দেব.....।" - "আমার ও খুব ইচ্ছে করে, পূজোটা তোর সাথে কাটাতে।" ফোনের ওপার টা এক মহুর্তের জন্য নিস্তব্দ হয়ে গেল। বললাম—"কি ,রে রাগ করেছিস?" — "না! তোর চাকরীটাই খারাপ। আমি চাকরী টা পেয়ে গেলে তোকে আর ও কাজ করতে দেব না।" - "তাহলে আমার পরিবার, কে দেখবে ?" — "আমি দেখব।" -' আর তোর পরিবার?" - "সেটাও আমি।" — "এত দায়িত্ব নিতে পারবি?" — "তুই আমার কাছে থাকলে, আমি সব পারব।" - "পাগলি একটা!" - "প্লিজ ! আয় না এবার পূজোতে!" - "দেখি একবার শেষ চেষ্টা করে!" —"থাক তোর আসতে হবে না