Skip to main content

তোমায় বলা আনমনা কিছু কথারা




১.

নীল ঝরনার পাহাড়িয়া বাতাশের কোলে এলো চুলো তোমায় সব থেকে সুন্দর লাগে। শীতল জলে পা ডুবিয়ে, নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে স্বপ্নে ভেসে যাও তুমি। তোমার গোলাপ ঠোঁট, চোখের প্রতিটা পলক গল্প এঁকে যায়। জন্ম থেকে মৃত্যুর প্রতি স্তরে গল্পের তুমি গল্পের নায়িকা। অন্ধকার রাস্তায় তুমি যখন হেঁটে চলো, একদল পিশাচ তোমার পিছু নেয়।রক্তাক্ত হয়ে তখনও গল্প তৈরী করে যাও তুমি। তাই আজ শুধু তোমাদের গল্প। তোমার গল্প আমার কলমে৷

২.

জানালার পাশের অশথের পাতায় যখন অঝোর ধারায় বৃষ্টি নেমে আসে, আমার মনে হয়, কোনো চিলেকোঠার গোপন ঘরে তুমি নীরবে চোখের জল ফেলছো- তখন আমি কলম নিয়ে লিখতে বসি।
বালু চিক চিক তোমার চিবুকে যখন কেউ চুমুর রেখা এঁকে দেয়-তখন আমি গল্পের নায়িকায় তোমার ছবি ভাবি। পাহাড়ের কোলে সূর্য ডোবে। তুমি হাত ধরে আমাকে কাছে টেনে নাও। আবার গল্প তৈরী হয়। তোমার গল্প, আমার গল্প।


৩.

একবার তাকিয়ে দেখ,
নীল আকাশের মাঝে সাদা পায়রা টা তোমাকে ডানা মেলে ডাকছে।
একবার তাকিয়ে দেখ,
ঘাসের মাঝের নাম না জানা ফুল গুলো তোমার স্পর্শ পেতে চায়।
একবার তাকিয়ে দেখ,
যে তোমায় কালো বলে চলে গিয়েছিল, সে
আজ সঙ্গীহীন।
একবার তাকিয়ে দেখো,
যে তোমায় কষ্ট দিয়েছিল, সে আজ কালো অন্ধকারে ডুবে গেছে।
তোমার মনের কোনে জমে থাকা একটু দু:খ,  একটু যন্ত্রনা, টুপ টুপ করে আরও একবার ঝরে পড়ে আমার কলমের ডগায়।

৪.

একটা রাত ছিল তোমার চুলে মতো কালো, একটা দিন ছিল তোমার চোখের মতো উজ্বল একটা সকাল ছিল, তোমার গোলাপ ঠোঁটের মতো সুন্দর,
একটা বিকেল ছিল, তোমার এলোচুলে ছাদের কার্নিসে দাঁড়িয়ে থাকার মতো,
আর একটা আমি ছিলাম, তোমার মনের গোপনে.......

৫.

আরেকটু ভালোবাসো আমায়,
এক মুঠো বরফ কুচি সাজিয়ে দেব তোমার চোখের পাতায়।
আরেকটু ভালোবাসো আমায়,
এক মাঠ সরষে ক্ষেত উপহার দেব তেমায়...
ক্লান্ত বিকেল,বেনারসী সূর্য,তালদিঘি জুড়ে নেমে আসা নিস্তব্দতা...
আর আমার একটুখানি ভালোবাসা।

৬.

ভোরের কুয়াশা তোর দু'হাতের মতো আদর করে জড়িয়ে ধরে,
আমি তাকিয়ে থাকি দিঘির জলে।
নুইয়ে পড়া বটের পাতা থেকে টুপ টুপ হিম পড়ে, ইচ্ছে করে একটা হিমের টোপ তুলে এনে তোর কপালে বসিয়ে দিই.......

৭.

শীতের ভোর। ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ। বট পাতা থেকে টুপ টুপ করে হিমের ফোঁটা। আর, তুমি শাল জড়ানো গায়ে কুয়াশার চাদরের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে,আমার সামনে এসে দাঁড়াও- এরকম একটা দৃশ্যের জন্যে আমি অনন্তকাল বেঁচে থাকতে চাই।

৮.

আরেক'টু কাছে এসো,
তোমার চোখের পাতায় ভোরের শিশির এঁকে দেবো।
আরেক'টু ভালোবাসো,
রাঙা মাটির পথ বেয়ে শালের বনে হারিয়ে যাব দু'জন। বৃষ্টি নামবে সবুজ পাতায়।
তোমার ভেজা চুলের গন্ধে ভরে উঠবে শাল বন। আর, আমি আরও একবার প্রেমে পড়বো তোমার।

৯.

সেদিন ফুল ফুটে ছিল তোমার ঠোঁটের হাসিতে
সেদিন ভোর হয়েছিল তোমার হাতের স্পর্শে,
সেদিন বৃষ্টি নেমেছিল তোমার চোখের চাহনিতে;
সেদিন চাঁদ নেমে এসেছিল তোমার ছাদে,-
ছুঁতে চেয়েছিল তোমার ক্লান্ত মুখ খানি।
সেদিন সন্ধ্যে নেমেছিল তোমার কালো চুলে, সেদিন জোছনা ভেসে ছিল তোমার সারা শরীর জুড়ে
সেদিন ঝড় উঠেছিল, চার দেওয়ালের ভেতর তোমার যন্ত্রনায়;

আমি দেখেছিলাম সব। অসহায়ের মতো ছটফট করেছিলে, আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ে। যেন শিকল ভেঙে তুমি বেরোতে চাইছো। পাখি হয়ে উড়ে যেতে চাও অনেক দূরে। যেখানে কেউ কষ্ট দেবে না তোমায়। তারপর একদিন সত্যিই তুমি উড়ে গেলে। অনেক দূর। অনেক দূরে। যেখানে কোনো কষ্ট নেই, নেই যন্ত্রনা। আর, আমি নীরবে বসে কলম হাতে নিয়ে তোমার রেখে যাওয়া গল্পটা শেষ করেছিলাম।


১০.

সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর,
পরম আদরে আমার মাথাটা যখন তোমার বুকে টেনে নাও,তখন মনে হয় পৃথীবিতে এর থেকে আর শান্তির জায়গা কোথাও নেই।

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৬)

Comments

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

কাশফুল ~ ছোটোগল্প [ Bengali Short Love Story ]

কাশফুল ~ ছোটোগল্প [ Bengali Short Love Story ] — "এবার পূজোয় আসবি তো?" - "কি করব বল! অফিস থেকে একদম ছুটি দিতে চাইছে না।" — "তুই সব সময় অজুহাত দেখাস।" - "বিশ্বাস কর,আমি অফিসার কে অনেক রিকোয়েস্ট করলাম কিন্তু আমাকে সাতটা কথা শুনিয়ে দিল।" —" ভাল লাগে না আমার! কত ভাবি পূজোর সময় তোর হাত ধরে সারা কলকাতা টা ঘুরবো, তোর পাশে বসে অষ্টমীর অঞ্জলি দেব.....।" - "আমার ও খুব ইচ্ছে করে, পূজোটা তোর সাথে কাটাতে।" ফোনের ওপার টা এক মহুর্তের জন্য নিস্তব্দ হয়ে গেল। বললাম—"কি ,রে রাগ করেছিস?" — "না! তোর চাকরীটাই খারাপ। আমি চাকরী টা পেয়ে গেলে তোকে আর ও কাজ করতে দেব না।" - "তাহলে আমার পরিবার, কে দেখবে ?" — "আমি দেখব।" -' আর তোর পরিবার?" - "সেটাও আমি।" — "এত দায়িত্ব নিতে পারবি?" — "তুই আমার কাছে থাকলে, আমি সব পারব।" - "পাগলি একটা!" - "প্লিজ ! আয় না এবার পূজোতে!" - "দেখি একবার শেষ চেষ্টা করে!" —"থাক তোর আসতে হবে না