Skip to main content

Posts

Showing posts from August, 2017

বিখ্যাতদের মজার গল্প

বিখ্যাতদের মজার গল্প ভন নিউমান : এক রকেট তৈরী কারী নির্মান সংস্থা একবার বিখ্যাত গনিতজ্ঞ ভন নিউমান কে পরামর্শ দাতা হিসেবে ডেকে এনেছিলেন।ভন নিউমান তাদের অর্ধ সমাপ্ত হওয়া রকেট দেখে বললেন,কারা এটার ডিজাইন করেছে? ম্যানেজার জানালেন, আমাদের ইঞ্জিনিয়র রা।ভন নিউমান তাচ্ছিল্যর সুরে বললেন, তারা রকেট বানানোর কি জানে হে! রকেট বানানোর গানিতিক সূত্র ১৯৫২ সালে আমার একটা গভেষনা পত্রে রয়েছে।ভালো করে পড়ে নেবেন।সবাই তাড়াহুড়ো করে সেই গভেষনা পত্র পড়ে, তার সূত্র অনুসরন করে বহু অর্থ ব্যায় করে রকেট বানালেন।কিন্তু সেটা আকাশে উড়তে না উড়তেই বিকট শব্দ করে ফেটে, পুড়ে গেল। ম্যানেজার ভীষন রেগে গিয়ে ভন নিউমান কে ফোন করলেন। শান্ত সুরে ভন নিউমান জবাব দিলেন, ও হ্যাঁ ফেটে তো যাবেই।১৯৫৩ সালে আমার আরেকটা গভেষনা পত্রে এই রকেট ফাটা সমস্যার সমাধান করেছি আমি।সেটা পড়েন নি! জ্যাক বেনি: বিখ্যাত কমেডিয়ান জ্যাক বেনি এমন একটা ভাব দেখাতেন তার মতো কৃপন আর কেউ নেই।তিনি একটা রেডিও শো তে কাজ করতেন।সেই শো তে একদিন সবাই শুনতে পেল, জ্যাক বেনি কে এক ডাকাত এসে বলছে, হয় তোমার টাকা দাও, নইলে তোমার প্রান দাও।কিছুক্ষন চুপ থেকে জ্যাক

নাটক : লঙ্কা কান্ড ( হাস্যরসাত্মক)

লেখাটি হাস্যরস ধর্মী। মূল রামায়নের লঙ্কাকান্ড পর্ব এটি নয়।লেখার সময়কাল ২০০৯ এবং পরে ২০১৫ তে কিছু সংলাপ পরিবর্তন করা হয়। প্রিয় লেখক সুকুমার রায়ের অনুপ্রেরনা ও তার প্রতি সন্মান জানিয়েই লেখাটি শুরু করলাম। পর্ব ১ [বানর সেনাগন সমুদ্রের কিনারে বসে কিভাবে সমুদ্র পার হয়ে লঙ্কায় যাওয়া যায় তার তোড়জোড় করছে।] সুগ্রীব : উফ! কেন যে বালি কে মেরে রাজা হতে গিয়েছিলাম! এখন তার ফল ভোগ করছি। এত বড় সমুদ্র কে যে পার হবে? বানরগন: যেমন কর্ম তেমন ফল। পাপ করেছেন, ফল তো আপনাকেই ভোগ করতে হবে। সুগ্রীব : চোপরাও বেয়াদপ! তখন তো আমাকে বুদ্ধি দিয়ে গাছে তুলে দিয়েছিলে। রাসকেল যতসব! [ জাম্বুমানের প্রবেশ] জাম্বুমান: এত গোলমাল কিসের? সুগ্রীব : খুড়ো, কিছু একটা করুন। এত বড় সমুদ্র এখন পার হয়ে সীতা অন্বেষণ করতে যাবে কে? জাম্বুমান: একটা প্লেনের টিকিট কেটে নিলেই তো হয়! সুগ্রীব: কি যে বলেন! এই সব বুনো বাঁদর দের প্লেনে উঠতে দেবে না। আর টিকিটের যা দাম! ও ব্যাটা রাম দিতে চাইছে না। বনবাসে এসেছে, সঙ্গে ক্রেডিট কার্ড আনেনি।  জাম্বুমান: (অঙ্গদের দিকে তাকিয়ে)এই তুই লাফিয়ে যেতে পারবি না? অঙ্গদ: (কান্নার ভান করে) দাদু!

বাংলা কবিতা "স্বাধীনতা ?? "

একাত্তরতম স্বাধীনতা  দিবস পালিত হল আজ  পালিত হল মহাধুমধামে; উদযাপিত হল রাস্তা -চৌরাস্তার মোড়ে৷               মাইকে আর তেরঙ্গায়   ভাষণে আর বক্তৃতায়                                     ঢাকা পড়লে তুমি ভারতবর্ষ ! কিন্তু তুমি ,তুমি বললে নাতো, বললে নাতো তাদের কথা,যারা শুধুমাত্র অসহায়তার জন্য বিকিয়ে দিতে বাধ্য হয় নিজের শিশুসন্তানকে ৷ বললে নাতো শাস্তি  পাবে কিনা , সেই সেইসব কাফের ,যারা অর্থের লোভে পণ্য করেছে মানবশিশুকে ৷ বললে কই তাদের কথা ,যারা বেকারত্বের জ্বালা হজম করতে না পেরে হনন করেছে নিজেকে ৷ বললে কই ? বললে কই তাদের  কথা , যাদের  দাবী শুধু দুবেলা দু-মুঠো অন্ন ? যারা চায় না কোন বিলাসিতা ৷ হাসপাতালে-হাসপাতালে-অফিসে আদালতে আজ এ চরম স্বেচ্ছাচারিতা ৷ মাইক ফুকে বললে  না তো এসব কথা ! শুধুই সাফল্য ........? বলা হয়নি শুধু নাহি কিছু ,যাহা নাহি  আজও ফলল ৷ এবার  সময় হয়েছে  বলার তুমি বলো,বলো ভারতবর্ষ যারা দুহাতে চেপে করে তোমার কন্ঠরুদ্ধ ! একবিংশ শতাব্দীতে এসে আজও নারীশিশু ভয় পায়, ভয় পায় ভুমিষ্ঠ হতে , বলো ........বলো "রাক্ষসেরা ঝোপে ঝাড়ে মারবে 'না' উঁকি

বাংলা কবিতা "আমি"

গাড়িটি এসে থেমেছিল আমার সামনে। নিশুথি রাতের উড়ালপুল, হলুদ ভ্যাপারের আলোর স্নাত থমথমে কালো পিচের রাস্তা; কয়েকটি রাতজাগা পোকা লুকোচুরি খেলছিল নিশুতি রাতের সাথে হঠাৎ কে যেন চিৎকার করে উঠলো! ওই তো, ওই তো, আমি দেখতে পাচ্ছি তাকে... একটা আবছায়া হাত বার বার চাপড় দিচ্ছে গাড়িটির ভেতর কাচে; একটা করুন চিৎকার একটা অসহায়, যন্ত্রনা কাচ ভেদ করে ছুটে এল আমার দিকে। আমি চিৎকার করলাম.... ওরা কি শুনতে পেল? ওরা পিশাচ,ওরা শুনতে পায় না। একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলাম অসহায় কম্পমান গাড়িটির দিকে। আমার তাকানো ওরা সহ্য করতে পারলো, গাড়ি থেকে নেমে পাষন্ড গুলো বোতল ছুড়ে মারলো আমার চোখে.... খোয়া ছুড়লো, পাথর ছুড়লো......ক্ষত বিক্ষত করলো আমার চোখ; অন্ধ হয়ে গেলাম আমি। ঝুপ করে কালো হয়ে গেল চারিদিক কিছু দেখতে পেলাম না, একটা আর্ত চিৎকার শুধু কানে এসে বাজলো কি করতে পারি আমি? আমি নিরুপায়, আমাদের শুধু সাক্ষী হয়ে থাকতে হয়.... আমি এক অসহায় স্ট্রিট লাইট।। স্বদেশ কুমার গায়েন (আগস্ট, ২০১৬)

একটি ভালবাসার গল্প " ভালবাসার বন্ধন"

(১) অবশেষে বিয়েটা করেই ফেললুম। টোপর মাথায় দিয়ে,সাত পাকে ঘুরে,শুভদৃষ্টি, অগ্নি,জল,আকাশ, বাতাশ সব কিছুকে সাক্ষী রেখে।বিয়েটা যে করতেই হত,এমনটা নয়। না করলেও চলতো।কিন্তু একটা বিশেষ কারনে বিয়েটা করতে হল।কারন টা পরে বলছি।তার আগে একটু আমার পরিচয় দেওয়া প্রয়োজন। আমার নাম সমর ঘোষ।মাঝারি উচ্চতা,শ্যামলা গায়ের রঙ,রোগা-পাতলা চেহারা।গোল গোল চোখ গুলোর উপর জোড়া ভুরু।মাথায় হালকা কালো চুল।মুখ ভর্তি খোঁচা খোঁচা দাড়ি।আর নীচের ঠোঁটের উপর একটা কালো তিল আছে।বয়েস এই চব্বিশের কাছাকাছি।আমি দক্ষিন-পূর্ব রেলে একটা ছোটো-খাটো চাকরী করি।মেদিনীপুর স্টেশনে পোস্টিং।বছর তিনেক হল চাকরী টি পেয়েছি।আমার বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়।খড়গপুর স্টেশন থেকে সাইকেলে মিনিট পনেরোর পথ।খড়গপুর থেকে মেদিনীপুরের দূরত্ব বেশি নয়। তাই প্রতিদিনই বাড়ি থেকে যাতায়াত করি।এই হল মোটামুটি আমার বিজ্ঞাপনহীন জীবনের পরিচয়। এবার বিয়ে করার কারন টা বলি। আজ এই চব্বিশ বছর বয়েসে হঠাৎ আমার মরার ইচ্ছে জাগলো। হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন-সুসাইড।তবে ইচ্ছে টা হঠাৎ করে জাগেনি।একটু একটু করে মন খারাপ,ভাল না লাগা জমা হতে হতে,আজ সেটা থেকে মুক্তি পাওয়ার ইচ্ছে হল। তোমরা বলবে

একটি পরমানু গল্প " ইভটিজিং"

রাস্তার পাশে বসে আছি।চারজন। বিকালে অনেক মেয়েরা যাতায়াত করে। সুমন বলল,–" দেখ, দু'টো মাল আসছে।ঝাক্কাস। কে তুমি নন্দিনী...।" হেসে উঠলাম।মেয়ে দু'টো সামনে আসতেই বললাম,–"ওই মিলি,কোথায় যাবি?" চলে গেল ওরা। সুমনের মুখ চুন। বললাম,–"শালা,নিজের বোন কে চিনিস না?" পরদিন থেকে পার্কে আর বসি না। স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৬)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প " শুভদৃষ্টি"

কান্তিচন্দ্রের বয়স অল্প, তথাপি স্ত্রীবিয়োগের পর দ্বিতীয় স্ত্রীর অনুসন্ধানে ক্ষান্ত থাকিয়া পশুপক্ষী-শিকারেই মনোনিবেশ করিয়াছেন। দীর্ঘ কৃশ কঠিন লঘু শরীর, তীক্ষ্ম দৃষ্টি, অব্যর্থ লক্ষ্য, সাজসজ্জায় পশ্চিমদেশীর মতো; সঙ্গে সঙ্গে কুস্তিগির হীরা সিং, ছক্কনলাল, এবং গাইয়ে বাজিয়ে খাঁসাহেব, মিঞাসাহেব অনেক ফিরিয়া থাকে; অকর্মণ্য অনুচর-পরিচরেরও অভাব নাই। দুই-চারিজন শিকারী বন্ধুবান্ধব লইয়া অঘ্রানের মাঝামাঝি কান্তিচন্দ্র নৈদিঘির বিলের ধারে শিকার করিতে গিয়াছেন। নদীতে দুইটি বড়ো বোটে তাঁহাদের বাস, আরো গোটা-তিনচার নৌকায় চাকরবাকরের দল গ্রামের ঘাট ঘিরিয়া বসিয়া আছে। গ্রামবধূদের জল তোলা, স্নান করা প্রায় বন্ধ। সমস্ত দিন বন্দুকের আওয়াজে জলস্থল কম্পমান, সন্ধ্যাবেলায় ওস্তাদি গলায় তানকর্তবে পল্লীর নিদ্রাতন্দ্রা তিরোহিত। একদিন সকালে কান্তিচন্দ্র বোটে বসিয়া বন্দুকের চোঙ সযত্নে স্বহস্তে পরিষ্কার করিতেছেন, এমন সময় অনতিদূরে হাঁসের ডাক শুনিয়া চাহিয়া দেখিলেন, একটি বালিকা দুই হাতে দুইটি তরুণ হাঁস বক্ষে চাপিয়া ধরিয়া ঘাটে আনিয়াছে। নদীটি ছোটো, প্রায় স্রোতহীন, নানাজাতীয় শৈবালে ভরা। বালিকা হাঁস দুইটিকে জলে ছাড়িয়া দিয়া এক

বাংলা কবিতা "চোর "

ছোট্টো ছেলেটি ফুটপাত ধরে উর্দ্ধশ্বাসে দৌড়চ্ছে, ভয়ার্ত দৃষ্টিতে মাঝে মাঝে পেছন ফিরে তাকাচ্ছে; হাতে একটা ছোটো প্যাকেট। কখনো ফুটপাত,কখনো গাড়ি রাস্তা কখনো বা রাস্তা ক্রশ করে; দুধারে মৃত্যুর নিশান তবুও ভয় নেই তার মনে। হাত পঁচিশ দুরে কতো গুলো ষন্ডামার্কা লোক হাতে লাঠি নিয়ে ধর ধর, চোর চোর.....পালিয়ে গেল…। লাল সিগন্যালের আলোয় শীততাপ নিয়ন্ত্রিত প্রাইভেট গাড়িতে বসে হঠাৎ চোখ গেল সেই চিত্রনাট্যের দিকে; বুকটা কেঁপে উঠল… জানিনা! ছেলেটির ভাগ্যে কি আছে। সিগন্যালের সবুজ আলোয় গাড়ি গুলো চলছে বিদ্যুৎ গতিতে। চিত্রনাট্য এখন আমার চোখের আড়ালে।চারিদিকের জনসমুদ্রের চোরাবালিতে সে হয়তো হারিয়ে গেছে..... এদিকের রাস্তাটা একটু ফাঁকা। কিছুটা সবুজের ছোঁয়া লেগে আছে ফুটপাতের দুপাশে, হঠাৎ গাড়ির কালো কাচের ভিতর দিয়ে চোখ গেল ফুটপাতে; চারিদিকে লোক জনের ভিড়,কোলাহল… এক টুকরো কথা কানে এল আমার ’চোর মরেছে ঠিক হয়েছে’ আমি কাচ নামিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম... এক ছিন্ন ভিন্ন বস্ত্রপরিহিতা,কঙ্কালসার মহিলা যেন সবেমাত্র ছুটি পেয়েছে …প্রেতলোক থেকে। কোলে সেই ছোট্টো ছেলেটি রক্তে ভিজে জবজবে; এরা মানুষ না অন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়ান দিবশে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

          তখন     কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি,              সকল খেলায়...             সকল খেলায় করবে খেলা এই আমি -- আহা,             কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি,              নতুন নামে ডাকবে মোরে, বাঁধবে...             বাঁধবে নতুন বাহু-ডোরে,              আসব যাব চিরদিনের সেই আমি...         তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,               তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে..... আজ ২২ শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। এশিয়ার প্রথম নোবেল বিজয়ী কবি, সাহিত্যিক, চিত্রকার, সুরকার, গীতিকার, দার্শনিক বহু গুনে গুনান্বিত কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কে আখ্যায়িত করা হয় সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী কবি হিসেবে। বাংলা সাহিত্য ও কাব্যগীতির শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৬তম প্রয়াণ দিবস আজ। ১৯১৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরুস্কার অর্জন করেন ‘গীতাঞ্জলি' (কবিতা গুচ্ছ) রচনা করে। সমগ্র এশিয়ায় তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি নোবেল প্রাইজ অর্জন করার গৌরব অর্জন করেন। রবীন্দ্রনাথ বর্ষা নিয়ে, আষাঢ়-শ্রাবণ নিয়ে লিখেছেন । তাতে ধরা পড়ে শ্রাবণ-বর্ষণের বহুমাত্রিক রূপ। তবে শ্রাবণের দিক

একটি প্রেমের কবিতা " তুমি এসেছিলে"

তুমি এসেছিলে সেদিন আকাশ থেকে মেঘ নেমে এসেছিল আমার জানালায়। জল নুপুর পরে ঝুমুর গানে নেচেছিল, মেঘ কন্যার দল তুমিও ভিজে পায়ে পা মেলালে তাদের সাথে। তুমি এসেছিলে ভোরের শিশির পায়ে মেখে কুয়াশার চাদর গায়ে জড়িয়ে; ভিজে ঘাসের উপর তোমার পায়ের ছাপ ধরে আমি হেঁটে গিয়েছিলাম সেই অচিনপুরের দেশে। তুমি এসেছিলে সেদিন পূর্নিমা ছিল, চাঁদ উঠেছিল আমার আকাশ জুড়ে। উত্তাল জোছনা সমুদ্র প্লাবিত বালুতট স্নান করেছিলাম  আমি তোমাকে নিয়ে; তুমি এসেছিলে এক টুকরো ভালোবাসা নিয়ে আমার মৃত মনে; আমি আরেকবার হারিয়ে গেলাম তোমার মধ্যে। স্বদেশ কুমার গায়েন ( ২০১৭, অগস্ট)

দু'টি পরমানু গল্প "বিকেলের মেয়ে এবং পোষ্য "

বিকেলের মেয়ে নতুন স্টেশন মাস্টারের চাকরী পেয়েছি। আমার চাকরী হয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুরেরর একটি স্টেশনে।মফস্বল বলা যায় না জায়গাটি কে। লাল পাথুরে,ছোট্টো,নির্জন, গ্রাম্য স্টেশন। সারাদিনে বেশীরভাগ এক্সপ্রেস ও মালগাড়ী চলে।আর তার মাঝে কয়েকটা প্যাসেঞ্জার ট্রেন।যখন একটু কাজে ফাঁকা পাই স্টেশন টা ঘুরে দেখি।গাছ-গাছালিতে ঘিরে রেখেছে প্লাটফর্ম টি কে।হরেকরকম ফুলের গাছ।তার উপর আম, বট মেহগনি তো আছেই। প্রতিদিন একটা মেয়েকে,বিকালে প্লার্টফর্মে বসে থাকতে দেখি।আমার কেবিনের ঠিক ওপর পারের প্লাটফর্মে মেয়েটি বসে থাকে।যেদিন থেকে আমি এখানে কাজে যোগ দিয়েছি সেদিন থেকেই দেখে আসছি তাকে।রোজ চুপ করে বসে খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।কখনো নির্বাক হয়ে রেল লাইনের দিকে চেয়ে থাকে। সুন্দরী, ফর্সা, যৌবনবতী চেহারা।মেয়েটিকে ভাল লাগে আমার।কথা বলতে ইচ্ছে করে। ভালোবাসতেও। এক স্টাফ কে জিজ্ঞেস করলাম।-"ওই মেয়েটি  কে বলোতো?প্রতিদিন প্লাটফর্মে এসে বসে থাকতে দেখি!" সে বলল,–" মেয়েটা পাগল,স্যার।ওর স্বামী রেলে চাকরী করত।এখানেই ট্রেনে কাটা পড়ে। তারপর থেকে,প্রতিদিন এসে বসে থাকে।" পোষ্য সেদিন রাত হল বাড়

দুটি পরমানু গল্প " ডিলিট, এবং ঘরেফেরা "

ডিলিট লেভেল ক্রসিং পেরিয়ে,কিছুটা হেঁটে গিয়ে রেল লাইনের পাশে বসে আছি।এদিকটা একটু ফাঁকা ফাঁকা।আসেপাশে ঘরবাড়ি তেমন নেই। দু'পাশে ধূ ধূ মাঠ।মাঠের উপর খোলা আকাশ। কিছুক্ষন আগে সূর্য টা আকাশের সাথে সিঁদুর খেলে দূরে গ্রামের আড়ালে মুখ লুকিয়েছে।তারপর একটু একটু করে কালো হয়ে এলো চারিদিক। সন্ধ্যা নেমে গেছে মাঠের উপরে।হাতের ঘড়ির দিকে তাকালাম। পৌনে সাতটা।ডাউন ট্রেন আসতে এখনো মিনিট পাঁচেক বাকি।ফেসবুকে হোয়াটঅ্যাপসে,পাঠানো তোর সব ছবি,ম্যাসেজ, ফোন নাম্বার সব ডিলিট করে দিয়েছি।কিছু নেই আর।তোর সব স্মৃতি ডিলিট করতে চাই। কিন্তু আমার মন থেকে, তোকে ডিলিট করতে পারছি কই? ট্রেনের হুইসেল শোনা গেল। গর্জন গর্জন করতে করতে এগিয়ে আসছে লোহার অজগর। উঠে দাঁড়ালাম।একটু একটু করে এগিয়ে গেলাম রেল লাইনের উপর।আমাকে মরতেই হবে.....! ঘরে ফেরা বাড়ি থেকে পালাচ্ছি। কোথায়,কোনদিকে যাব জানিনা।যে দিকে চোখ যাবে সেদিকে চলে যাব। শিয়ালদহ স্টেশনে বসে আছি ট্রেনের অপেক্ষায়। আমার সামনে দু'টো বাচ্চা ছেলে–মেয়ে বসে আছে। ফর্সা, খালি গা,ময়লা ঝট পড়া লাল চুল। মেয়েটি হাঁটতে জানে না।একটু একটু কথা বলতে পারে।ছেলেটি একটু বড়। বছর তিন-

একটি ফ্যান্টাসি ছোটগল্প " পিকে ২ "

প্লাটফর্মের টিকিট কাউন্টার পাশ দিয়ে মেন রোডে ওঠার রাস্তার পাশে রোজ বসে থাকা চেনা ভিকিরি গুলোর দিকে চোখ পড়তেই পা টা থমকে গেল। ক্লাস টেস্টের খাতা গুলো দেখতে দেখতে আজ স্কুল থেকে ফিরতে একটু দেরী হয়ে গেছে। প্রতিদিন যে ট্রেনে ফিরি সেটা আজ আর পেলাম না, অগত্যা পরের চারটে কুড়ির লোকাল টা ধরতে হল। ভিকিরিদের মতো বাটি নিয়ে বসে থাকা লোকটিকে দেখে কেমন যেন চেনা চেনা মনে হল। গায়ে একটা ছেঁড়া হাফ হাতা গেঞ্জি, নীচের দিকে কালি ঝুলি মাখা অর্ধেক ছেঁড়া সুট। কিন্তু চোখ গুলো যেন কেমন চেনা চেনা, মুখ, কান সব যেন চেনা লাগছে। কোথায় দেখেছি যেন! গভীর ভাবে মনে করার চেষ্টা করলাম। ছবিটা মনে পড়তেই চমকে উঠলাম, — পিকে! সত্যিই তো! সেই পলক না পড়া বড় বড় সাদা চোখ, খাড়া খাড়া কান...গলায় সেই নীল রঙের চকচকে লকেট হার ঝোলানো। আর কোনো সন্দেহ রইল না- এ পিকে ছাড়া কেউ হতে পারে না।কিন্তু ও কলকাতায় এল কি করে? আর ভিকিরি দের মাঝে কি করছে? ধীরে ধীরে ওর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।হাঁটু মুড়ে বসে পড়লাম।চাপা স্বরে জিজ্ঞেস করলাম,- "তুমি পিকে, না?" অবাক হয়ে আমার দিকে তাকাল লোকটি। বড় করে চোখ ঘোরালো।তারপর পরিষ্কার বাংলায় বলল,- "হ্য