Skip to main content

দু'টি পরমানু গল্প "বিকেলের মেয়ে এবং পোষ্য "



বিকেলের মেয়ে



নতুন স্টেশন মাস্টারের চাকরী পেয়েছি। আমার চাকরী হয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুরেরর একটি স্টেশনে।মফস্বল বলা যায় না জায়গাটি কে। লাল পাথুরে,ছোট্টো,নির্জন, গ্রাম্য স্টেশন। সারাদিনে বেশীরভাগ এক্সপ্রেস ও মালগাড়ী চলে।আর তার মাঝে কয়েকটা প্যাসেঞ্জার ট্রেন।যখন একটু কাজে ফাঁকা পাই স্টেশন টা ঘুরে দেখি।গাছ-গাছালিতে ঘিরে রেখেছে প্লাটফর্ম টি কে।হরেকরকম ফুলের গাছ।তার উপর আম, বট মেহগনি তো আছেই।

প্রতিদিন একটা মেয়েকে,বিকালে প্লার্টফর্মে বসে থাকতে দেখি।আমার কেবিনের ঠিক ওপর পারের প্লাটফর্মে মেয়েটি বসে থাকে।যেদিন থেকে আমি এখানে কাজে যোগ দিয়েছি সেদিন থেকেই দেখে আসছি তাকে।রোজ চুপ করে বসে খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।কখনো নির্বাক হয়ে রেল লাইনের দিকে চেয়ে থাকে। সুন্দরী, ফর্সা, যৌবনবতী চেহারা।মেয়েটিকে ভাল লাগে আমার।কথা বলতে ইচ্ছে করে। ভালোবাসতেও।

এক স্টাফ কে জিজ্ঞেস করলাম।-"ওই মেয়েটি  কে বলোতো?প্রতিদিন প্লাটফর্মে এসে বসে থাকতে দেখি!"

সে বলল,–" মেয়েটা পাগল,স্যার।ওর স্বামী রেলে চাকরী করত।এখানেই ট্রেনে কাটা পড়ে। তারপর থেকে,প্রতিদিন এসে বসে থাকে।"


পোষ্য


সেদিন রাত হল বাড়ি ফিরতে।রোজ অফিস থেকে সোজা বাড়ি চলে আসি। কিন্তু আজ একটি বন্ধুর বাড়ি যেতে হল।আমরা একই সাথে অফিসে কাজ করি।বন্ধুর বোনের জন্মদিন ছিল।সেই জন্মদিন সেরে বাড়ি ফিরতে একটু রাতই হয়ে গেল। বাড়ির সামনে এসে গেট ঠেলে ভেতরে  ঢোকার সময় কুকুরটি কে দেখতে পেলাম। লালচে,হাড়গিলে চেহারা।অতটা পাত্তা দেয় নি। এরকম কত কুকুর রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। ভেতরে ঢুকে গেটে তালা দেওয়ার সময় আমার চোখটা চলে গেলো কুকুরটির দিকে।এক করুন আর্তি নিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।মনে হয় কিছু খেতে পায়নি সারাদিন।

গেট বন্ধ না করে খুলে দিলাম।দেখলাম কুকুরটা ভেতরে এসে ঢুকলো।আমি ভেতরে গিয়ে ফ্রিজে রাখা কিছু খাবার এনে দিলাম। এক নিমেষে চেটে পুটে খেয়ে নিল সব।সেই থেকে কুকুর টিকে আমি খেতে দিই।আমার বাড়িতেই থাকে।

আমার চাকরীর বদলি হয়ে গেল। পোস্টিং ভুবনেশ্বর।ট্রেনে ওঠার সময়,কুকুর টি আমার পেছন পেছন প্লাটফর্মে এল।আমি কামরায় উঠতেই ককুর টিও কামরায় ওঠার চেষ্টা করলো।কয়েক জন লোক হ্যাট হ্যাট করে উঠতেই সে নীচে প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে রইলো। ট্রেন, প্লার্টফর্ম ছেড়ে দিয়েছে। একটু একটু করে গতি নিয়েছে।আমি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছি।


হঠাৎ দেখি কুকুর টি রেল লাইন ধরে দৌড়চ্ছে,ট্রেনের পিছনে।চোখে জল চলে এল আমার।একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললাম....।


সমাপ্ত



    স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৬)

Comments

  1. 'Poshyo' golpo tate 'deoghorer smriti' r choya ache...

    ReplyDelete

Post a comment

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

একটি ছোটগল্প " হট প্যান্ট "

গল্পটি সম্পর্কে  : মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার প্রিয় লেখক দের লেখা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লিখতে।এ গল্পটিও তেমনি আমার প্রিয় লেখক প্রচেত গুপ্তের একটি গল্প থেকে অনুপ্রানিত।শুধু অনুপ্রানিত বলবো না, অনেকাংশে প্লটের মিল আছে।তবে গল্পের থিম বা, বিষয় বস্তু সম্পুর্ন আলাদা। তাই ওনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখাটা লিখলাম। গল্প পড়ূয়া ফেসবুক পেজ ঃ  http://www.facebook.com/golpoporuya (১) বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিরি গরম পড়েছে। ভ্যাপসা গরম।দিনের বেলা যে খুব সূর্যের তাপ, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।তবুও হাঁসফাঁস করে দিন কাটাতে হচ্ছে।বৈশাখের শেষ। আম– কাঁঠাল পাকার পরিবর্তে পচে যাবে বেশি।বৃষ্টি আসতে এখনও অনেক দেরি।এবছর বৃষ্টি আসবেও কিনা,তাতেও সন্দেহ আছে।বাংলার আবহাওয়া বর্তমান অবস্থা,এমন হাস্যকর যে, কোনো কিছুই সঠিক ভাবে বলতে পারেন না আবহাওয়া দপ্তর। রাত দশটা বেজে গেছে।গরম কালে এটা কোনো ব্যাপার নয়।বিশেষত শহরের দিকে তো এটা অনেকটা সন্ধ্যা নামার মতো ব্যাপার।ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানটা বন বন করে ঘুরছে।একটা টেবিল ফ্যান ও আছে কিন্তু তাতেও গরম কাটছে না।টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে রমেন বাবু, একটা ধুতি পরে খালি গায়ে বসে স্কুলের খাতা